প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ‘সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং।
মূলত, গত সপ্তাহে জাপান তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘চোকাই’ থেকে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। উত্তর কোরিয়া এটিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি মনে করছে।
জাপানকে একটি ‘যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কিম ইয়ো জং বলেন, “টোকিও তার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে এখন ‘আগাম হামলা’ চালাতে সক্ষম একটি বিপজ্জনক যুদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। তাদের এই রূপান্তরের কারণে পিয়ংইয়ংয়ের নেতৃত্ব অতিরিক্ত সামরিক বিকল্প গ্রহণ করবে।”
তিনি দাবি করেন, জাপানকে এই আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং যুদ্ধজাহাজ উন্নত করার মাধ্যমে এশিয়ায় নিজেদের একটি ‘প্রক্সি সামরিক শক্তি’ হিসেবে গড়ে তুলতে মূল ভূমিকা রাখছে ওয়াশিংটন।
কিম ইয়ো জং সতর্ক করে আরও বলেন, ‘সামরিকবাদের উত্তরসূরিরা, যারা ধূর্ততা ও আগ্রাসনের উত্তরাধিকার বহন করছে, যদি তাদের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র তুলে নেয়, তবে অপ্রীতিকর কিছু ঘটবে।’
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালে আত্মসমর্পণের আগে জাপান পুরো কোরীয় উপদ্বীপ দখল করে রেখেছিল। এরপর ৩৮তম অক্ষরেখা বরাবর কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া— দুটি পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সেই ঔপনিবেশিক শাসনের সহিংস অতীতের প্রভাব এখনো উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে বিদ্যমান।
এদিকে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকির কথা উল্লেখ করে জাপান সম্প্রতি তার প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬২.২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে, যা ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই কড়া বার্তার পর আগামী দিনগুলোতে তারা সাগরে আরও বড় ধরনের ব্যালাস্টিক বা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




