ভূমধ্যসাগরে ১৫ দিন ধরে ভেসে থাকার পর দুই অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে স্পেন কর্তৃপক্ষ। স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন তারা। তাদের সঙ্গে একই নৌকায় থাকা আরও ১৭ জন যাত্রাপথে নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৩টার দিকে বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের মায়োর্কা দ্বীপ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর থেকে উত্তর আফ্রিকার বাসিন্দা ওই দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।
বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে স্পেন সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধি দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধারের পর দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভুগছিলেন।
উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অস্থায়ী নৌকাটি ১৫ দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভেসে ছিল। একই নৌকায় তাদের সঙ্গে আরও ১৭ জন ছিলেন। যাত্রাপথে ওই ১৭ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দুই অভিবাসীর বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্পেন সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধি দপ্তরের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই দুই যাত্রীর সাক্ষ্য ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো তথ্য বা চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থা। যে এলাকায় দুই অভিবাসীকে পাওয়া গেছে, সেখানে অনুসন্ধানের জন্য একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট মার্গা প্রোহেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘অভিবাসন সংকটের সবচেয়ে অমানবিক দিকটি আবারও বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে।’
রক্ষণশীল পিপলস পার্টির এই রাজনীতিক স্পেনের কেন্দ্রীয় বামপন্থি সরকারের প্রতি বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের অভিবাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারকে “বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ যে অভিবাসন জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় একটি বিশেষ পরিকল্পনা” তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল সেউটায় নজিরবিহীন অভিবাসন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখানে ৫০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন। তবে তাদের বেশিরভাগই পরে ফিরে গিয়ে প্রতিবেশী দেশ মরক্কোতে প্রবেশ করেন।
ভূমধ্যসাগরের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। মায়োর্কা, মেনোর্কা ও ইবিজাসহ কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে এই দ্বীপপুঞ্জ গঠিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় থাকা অনিয়মিত অভিবাসীদের কাছে বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জমুখী সমুদ্রপথটির ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে আলজেরিয়া থেকে যাত্রা করা অভিবাসীরা ক্রমেই বেশি সংখ্যায় এই পথ ব্যবহার করছেন।
উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর এই যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ছোট ও অনুপযুক্ত নৌকায় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে অভিবাসীরা পানিশূন্যতা, অপুষ্টিসহ নানা বিপদের মুখে পড়েন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নৌকা পথ হারিয়ে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থাকার ঘটনাও ঘটে।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস
এমএইচআর




