আজাদ কাশ্মিরের নির্বাচন ও সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ করার অভিযোগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়নি, তবে সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে পাকিস্তানের কোথাও আলজাজিরার সাইট খুলছে না বলে জানা গেছে।
এদিকে সোমবারই কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে আলজাজিরার বিরুদ্ধে ‘মনগড়া’ প্রতিবেদনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে আল-জাজিরা মুজাফফরাবাদের (আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী) হাতে গোনা কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের তথ্য সম্বল করে চলমান নির্বাচন নিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
তারা কিছু বাছাইকৃত ব্যক্তির বক্তব্যও তাদের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাকিস্তানের সরকার মনে করে, এই সময়ে এমন প্রতিবেদন পরিবেশনের পেছনে কোনো গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদসহ ১০টি জেলা এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান দখল করে পাকিস্তান। মুজাফফরাবাদ এবং তার সংলগ্ন ১০টি জেলার নাম দেওয়া হয় ‘আজাদ জম্মু-কাশ্মির’।
আজাদ কাশ্মিরের মোট আসনসংখ্যা ৫৩টি। এসব আসনের মধ্যে ৩৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন স্থানীয়রা। বাকি ২০টি আসনের মধ্যে ১২টি ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য এবং বাকি ৮টি নারী, উলেমা, টেকনোক্র্যাটদের জন্য সংরক্ষিত।
আরও পড়ুন:
আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) গত কয়েক মাস ধরে বিধানসভায় ‘শরণার্থী কোটা’ তুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের কারণে গত জুন মাসে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।
এদিকে চলমান এই আন্দোলনের মধ্যেই সেখানে বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। তফসিলে বলা হয়, ২৭ জুলাই, ২ আগস্ট এবং ১০ আগস্ট তিন দিনে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৩ জেলায়।
এদিকে ভোটগ্রহণের প্রথম দিন অর্থাৎ ২৭ জুলাই তারিখেই আজাদ কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় জনতার মধ্যে সংঘাতে নিহত হয়েছেন ৩০ জন।
আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করার পর সংবাদ সংস্থাটি থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও আজাদ কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি ফর প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।
সোমবার এক বিবৃতিতে সিজেপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “চলমান বিক্ষোভের মধ্যে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সিপিজে।
ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, টেলিযোগাযোগ বন্ধ করা, সংবাদ পরিবেশনে বাধা প্রদান এবং সাংবাদিকদের আটক ও গুমের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে, তথ্যে প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ দিতে হবে।
-এমএমএস




