তীব্র তাপপ্রবাহ কারণে জার্মানিতে গ্রীষ্মের সাড়ে ৩ মাসে (১ এপ্রিল থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত) রেকর্ড ৯ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০১৬ সালে এ ধরনের পরিসংখ্যান রাখা শুরুর পর থেকে গরমজনিত কারণে এবারই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হলো। আরকেআই-এর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে জার্মানিতে এক গ্রীষ্মে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন ২০১৮ সালে। সেবার মারা গিয়েছিল প্রায় আট হাজার ৯০০ জন।
চলতি গ্রীষ্মে গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত জার্মানিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করেছে আরকেআই। এতে দেখা গেছে, এ বছরের ১ এপ্রিল থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জনে মৃতু হয়েছে, এরমধ্যে শুধু জুন মাসের তীব্র তাপপ্রবাহেই মারা গেছেন ৫ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ, যখন তাপমাত্রা অনেক অঞ্চলে ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। এছাড়াও ১৩ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯০০ জনের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছিলেন ৭৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সি। এ সময়ে পুরুষদের তুলনায় নারীর মৃত্যু বেশি হয়েছে। তবে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট বলছে, এমনিতে বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি বলেই গরমজনিত কারণে মৃতের সংখ্যাতেও নারীর সংখ্যা বেশি এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরাসরি তীব্র গরমের কারণে খুব কম মানুষেরই মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণ ছিল আগেই ধরা পড়া হৃদরোগ, ফুসফুস বা কিডনির রোগ। তীব্র গরম এমন শারীরিক সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
আরকেআই আরও জানিয়েছে, এ কারণে সাধারণত মৃত্যু-সনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে গরমের কথা উল্লেখ করা হয় না। সরকারি তালিকাতেও তাই মৃত্যুর কারণ ‘তীব্র গরম’ থাকে না। এ কারণে তীব্র গরমের সপ্তাহগুলোর মৃতের সংখ্যার সঙ্গে স্বাভাবিক তাপমাত্রার সময়ের মৃতের সংখ্যার তুলনা করে গরমজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা নির্ণয় করে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
এমএইচআর




