মিয়ানমারের কারাবন্দী ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চির আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই কোনো আন্তর্জাতিক কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির প্রথম সাক্ষাৎ।
সোমবার মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইং খাইং সো টেলিগ্রামের এক বার্তায় জানান, রাজধানী নেপিডোতে দেশটিতে আইসিআরসির আবাসিক প্রতিনিধি আরনাউদ দ্য বেকের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন সু চি।
আইসিআরসি ওই কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে নিশ্চিত করেছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বন্দীদের গোপনীয়তা বজায় রেখে এই সাক্ষাৎটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে বৈশ্বিক সংস্থাটি জানিয়েছে, সু চির স্বাস্থ্য বা অবস্থানের বিষয়ে তারা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করবে না, বরং তাদের পর্যবেক্ষণগুলো সরাসরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে গোপনীয়ভাবে পেশ করবে।
মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের ৪টি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিগুলোতে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাকে কোনো সাহায্য ছাড়াই দাঁড়িয়ে থাকতে এবং দ্য বেকের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা গেছে। অন্য একটিতে, তারা দুটি চেয়ার ও একটি ডেস্কসহ কাঠের প্যানেলযুক্ত একটি সাদামাটা ঘরে বসে আছেন এবং একটি ছবিতে তাকে কেক কাটতেও দেখা যায়।

এদিকে এই সাক্ষাতকে মিয়ানমার সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সু চির ছেলে কিম আরিস।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এর ফলে আরও মানবিক অগ্রগতি হবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে আমার মায়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, আমাদের পরিবারের প্রবেশাধিকার, তার সুস্থতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য এবং পরিশেষে সকল রাজনৈতিক বন্দীর সাথে তার অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জিতেছিল সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। তবে ওই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে উৎখাত করা হয় এবং এরপর থেকে তাকে আটক করে রেখেছে সেনাবাহিনী।
নির্বাচনি জালিয়াতি, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ঘুস থেকে শুরু করে টেলিকমিউনিকেশন আইন লঙ্ঘন পর্যন্ত অপরাধের দায়ে নোবেলজয়ী এই নেত্রীকে ২৭ বছরের কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে হয়েছে। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগই অস্বীকার করেছেন অং সান সু চি।
গত এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত নির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সু চির সাজার মেয়াদ কিছুটা কমিয়ে তাকে কারাগার থেকে গৃহবন্দীত্বে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে হয়ে থাকা মিয়ানমারের জান্তা প্রধান তথা বর্তমান বেসামরিক প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার এবং নিজেদের ওপর থেকে চাপ কমানোর অংশ হিসেবেই সু চিকে এই জনসমক্ষে প্রদর্শনের সুযোগ দিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




