সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিজেপির দুর্গ বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোরের বাজিমাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বিজেপির দুর্গ বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোরের বাঁজিমাত

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে নরেন্দ্র মোদির দল- বিজেপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুর আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর। 

সোমবার দুপুর ৩টায় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০ রাউন্ড গণনার পরে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৯। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫৩৮ ভোট। অথাৎ ১১ হাজার ৬২১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন প্রশান্ত। 

বাঁকিপুর দীর্ঘদিনের বিজেপি দুর্গ। এই কেন্দ্র থেকে আগে কোনও বিজেপি প্রার্থী পরাজিত হননি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক পদ ছাড়ায় আসনটি খালি হয়।
এই উপনির্বাচনে প্রথমে অভিষেক কুমার সিনহাকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরদিনই তিনি ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। এরপর দলের যুবনেতা নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করা হয়।

বিজেপির প্রার্থী বদল নিয়ে কটাক্ষ করেছিল বিরোধীরা। তাদের দাবি ছিল, নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়ের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

আরজেডির প্রার্থী রেখা গুপ্তার সমর্থনে প্রচারে নেমে তেজস্বী যাদব দাবি করেছিলেন, জাতি, ধর্ম ও সামাজিক পরিচয়ের সীমা পেরিয়ে তার দলের প্রার্থী সমর্থন পাচ্ছেন। যদিও ভোটগণনায় প্রশান্ত এবং বিজেপি প্রার্থীর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন আরজেডি প্রার্থী।

প্রসঙ্গত, প্রশান্ত কিশোর (পিকে) ভারতের রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং আলোচিত ব্যক্তিত্ব, যিনি দীর্ঘকাল সফল ভোটকুশলী বা রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করার পর বর্তমানে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি নিজের দল জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি) গঠন করেন।

মূলত ২০১১ সালে গুজরাটে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন প্রশান্ত। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে তার ‘সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নে’' (সিএজি) সংস্থার বড় ভূমিকা ছিল।

পরবর্তীতে তিনি আই-প্যাক নামে একটি পেশাদার রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা সর্বভারতীয় স্তরে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (আপ), তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের মতো একাধিক প্রধান দলের নির্বাচনী কৌশল সাজিয়ে বিপুল সাফল্য পান। তবে ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তার জন সুরাজ পার্টি একটি আসনেও জিততে পারেনি, যদিও সেই নির্বাচনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি প্রশান্ত। তিনি বাঁকিপুরে জয় পেলে সেটি হবে দলের প্রথম বড় নির্বাচনী সাফল্য।

দাতিয়ায় এগিয়ে কংগ্রেস

এদিকে মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং ৩৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন।  

কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী ২ এপ্রিল অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় আসনটি খালি হয়েছিল। উপনির্বাচনে প্রথমবার বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি।

দাতিয়া একসময় মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা তিনবার তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক হন। তবে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হন।
এই উপনির্বাচনে নরোত্তম মিশ্রকে প্রার্থী না করায় তার অনুগামীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। 

কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যামের দাবি, অসন্তুষ্ট বিজেপি কর্মীদের একাংশ তাকে ভিতরে ভিতরে সাহায্য করেছেন।

ঘনশ্যাম দু’বারের সাবেক বিধায়ক এবং দাতিয়ার প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য। তিনি ১৯৯৩ ও ২০০৩ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পুরনো জনসংযোগ, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং বিজেপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের উপর ভর করেই তিনি নির্বাচনে লড়েছেন।

মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখল বিজেপি

গুজরাতের মঞ্জলপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির সতীশ গোবিন্দভাই প্যাটেল ৩০ হাজারের বেশি ভোটে কংগ্রেসের ভিখাভাই রাবারিকে পরাজিত করেছেন বলে সর্বশেষ ফলাফলে জানা গেছে।

বিজেপি বিধায়ক যোগেশভাই নারানদাস প্যাটেলের মৃত্যুতে আসনটি খালি হয়। উপনির্বাচনে বিজেপি ভদোদরা পুরনিগমের প্রাক্তন কাউন্সিলর সতীশ প্যাটেলকে প্রার্থী করেছিল। কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা দলের গুজরাত সহ-সভাপতি ভিখাভাই রাবারি।

মঞ্জলপুর কেন্দ্র তৈরির পর ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন যোগেশ প্যাটেল। তার আগে ১৯৯০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত পাঁচবার ভদোদরার রাওপুরা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পরেও মঞ্জলপুরে দলের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখল বিজেপি।


সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ওয়াল


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর