মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ওপর এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিমান হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে— এমন খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যত দ্রুত সম্ভব অঞ্চলটি ছাড়ার বা প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এই অঞ্চলে আবারো সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল এবং আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য উপলব্ধ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় অঞ্চল ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে’।
তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা ‘অনিশ্চিত’ উল্লেখ করে দূতাবাস জানিয়েছে, ‘ইরানের সরকারের সব সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত, যা তাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো থেকে স্পষ্ট; যেমন কোনো সতর্কতা বা উস্কানি ছাড়াই এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এমনকি আগে যেসব এলাকা হামলার লক্ষ্য ছিল না, সেগুলোতেও (যেমন মিশর)।’
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, অতীতে কোনো দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হামলার শিকার না হলেও, সেটিকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না। তাই মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত’।
অন্যদিকে যারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আছেন, তাদের এই অঞ্চল বা এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
প্রসঙ্গত, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল পুনরায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ফিরবে এবং দুই-এক দিনের মধ্যেই এই হামলা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রধান তেল শোধনাগার এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এছাড়াও রাজধানী তেহরানকে পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সূত্রমতে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববাজার খোলার আগেই যেকোনো অভিযান শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, যদিও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে ইরান ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস এবং মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোতে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে।
ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার পাল্টা জবাব দিতে তেহরান একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।
ওই কর্মকর্তা তাসনিমকে বলেন, ‘আমরা একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং আমরা তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত।’
তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো যথেষ্ঠ ‘সামর্থ্য ও সদিচ্ছা’ ইরানের রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রস্তুতি এবং মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশের অর্থ হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ তীব্র রূপ নিতে যাচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে। ফলে যুদ্ধ শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে জর্ডান, ইসরায়েল, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাবে এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থবির হয়ে পড়বে। ফলে পরে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




