কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে ইরানের হামলায় একটি চীনা কোম্পানিতে কর্মরত এক নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এবং দেশটি অবস্থিত চীনা দূতাবাসের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেবার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে একটি চীনা কোম্পানির ভবনে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে কোম্পানিটির উপ-ঠিকাদারের অধীনে কর্মরত একজন নেপালী চালক নিহত হন। এছাড়াও ভবনটির ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৌদ আল-আতওয়ান এক বিবৃতিতে বলেছেন, হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে কুয়েতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো চীনা নাগরিক নিহত বা আহত হননি।
প্রসঙ্গত,কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর বুধবার মধ্য রাত থেকে আবারও ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই হামলার প্রতিক্রিয়ার কুয়েত ও জর্ডানে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
হামলার পরপরই এক বিবৃতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে আইআরজিসি বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী দেশগুলো তাদের আচরণ সংশোধন না করলে ‘কঠোর পরিণতির’ সম্মুখীন হবে।”
ইরানের এই এলিট বাহিনীটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘যতদিন মার্কিন কর্মকর্তাদের মাত্রাতিরিক্ত বাগাড়ম্বর ও হুমকি এবং এই অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলে তাদের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা সম্ভব নয় এবং এই হুমকি ও হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন ও জটিল করে তুলবে।’
এরআগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে ইরান জুড়ে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইস্টার্ন টাইম থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর আগের দিন ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলার সময় ইরানের কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা, সিনহুয়া
এমএইচআর




