মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখিকা ই জিন ক্যারলের করা মানহানি মামলায় জুরির দেওয়া ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদন জানিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) পৃথকভাবে একই ধরনের আবেদন করেছে। খবর রয়টার্সের।
ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্যারল সম্পর্কে দেওয়া ট্রাম্পের মন্তব্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ ছিল। তাই সেগুলো প্রেসিডেন্টের আইনি দায়মুক্তির আওতায় পড়া উচিত।
আবেদনে ফেডারেল আইনজীবীরা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করলে দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টকে সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিধির মধ্যে করা মন্তব্যের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত আর্থিক দায় বহন করতে হবে।
এ জন্য তারা ওয়েস্টফল অ্যাক্ট-এর উল্লেখ করেছেন। এ আইনে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কিছু দেওয়ানি মামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীরা আরও যুক্তি দিয়েছেন, ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলার রায়ের আলোকে তার মন্তব্যকে ‘সরকারি দায়িত্বের অংশ’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
আরও পড়ুন:
ওই রায়ে প্রেসিডেন্টের ফৌজদারি দায়মুক্তির পরিধি বাড়ানো হলেও তা মূলত ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই ব্যাখ্যা দেওয়ানি মামলাতেও প্রযোজ্য করার চেষ্টা করছেন। যদিও নিউইয়র্কের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত গত বছর সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়।
ই জিন ক্যারল দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি মানহানি মামলা লড়ছেন। প্রথম মামলাটি ২০১৯ সালে দায়ের করা হয়। তখন ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ক্যারল ব্যক্তিগত স্বার্থে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সাজিয়েছেন।
দ্বিতীয় মামলা হয় ২০২২ সালে, যখন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যারলের অভিযোগকে ‘ভুয়া’, ‘প্রতারণা’ ও ‘সম্পূর্ণ জালিয়াতি’ বলে উল্লেখ করেন।
২০২৩ সালে দ্বিতীয় মামলায় জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী করে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম মামলার রায়ে ট্রাম্পকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়, যার বড় অংশই শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ।
এর আগে চলতি বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্ট ৫০ লাখ ডলারের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায়।
সুদ যোগ হয়ে সেই অর্থ প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং একটি ফেডারেল আদালত তা পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
এখন ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলারের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন আপিল সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এল ম্যাগাজিনের সাবেক কলামিস্ট ই জিন ক্যারল ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘হোয়াট ডু উই নিড মেন ফর? আ মডেস্ট প্রপোজাল’ বইয়ে অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিংরুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করেন।
ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই নারী আমার পছন্দের ধরনের নন।
-এমএমএস




