বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান!
ছবি: এআই

কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। তবে কিয়েভের তীব্র কূটনৈতিক যোগাযোগের পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত করে তেহরান। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার (২৫ জুলাই) কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এতে একজন ইরানি নাবিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীরি পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাজটি রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন তৈরির কাঁচামাল বহনের কাজে নিয়োজিত ছিল, যা তাদের জন্য একটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। 
 
অন্যদিকে হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কিয়েভকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনের দায়ে ইউক্রেনকে এর কঠিন জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন। এমনকি ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে ছোট বিস্ফোরকবাহী ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল তেহরান।

এর পরপরই তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে কিয়েভ। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে সরাসরি কথা বলেন। 

তিনি আশ্বস্ত করেন, কোনো বেসামরিক সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়নি এবং এটি ছিল একটি ‘অনিচ্ছাকৃত’ ঘটনা।

পরে আরাঘচি এক্সে এক পোস্টে জানান, ইরান এই মুহূর্তে পরিস্থিতি আর জটিল করতে চায় না। তবে ইরানি নাগরিকদের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। 

এছাড়াও ইউক্রেনের ‘সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিসইনফরমেশন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের মিসাইল হামলার যে আশঙ্কা ছড়িয়েছিল, তা আপাতত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইরান যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাত, তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক বিন্দুতে মিলে এক ভয়াবহ বৈশ্বিক রূপ নিত। তবে দ্রুত কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন,  ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে বা তাদের সাপ্লাই লাইনে হামলা সচল রাখতে চায়, কিন্তু ইরানের মতো কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে জড়াতে চায় না। এই কারণেই ড্রোন হামলার পর ইউক্রেন দ্রুত ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে একে "অনিচ্ছাকৃত" বলে উল্লেখ করেছে, যাতে ইরান রাশিয়ার পক্ষে সরাসরি ইউক্রেনের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা না চালায়।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে এমনিতেই ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের তীব্র উত্তেজনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আরেকটি নতুন ফ্রন্টে সংঘাতে জড়াতে চাচ্ছে না তেহরান।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর