বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ফের ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে পুশইন, আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ফের ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে পুশইন, আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম হওয়ায় এক ভারতীয় নারীকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার অভিযোগ উঠেছে। সমস্ত বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এই পুশব্যাকের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলে ঘটনার বিচার ও তাকে দেশে ফেরাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার ও একটি মানবাধিকার সংগঠন।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম সাইদা ফকির (৫০), তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।। তবে স্বামী জুম্মান ফকিরের সাথে গত ২০ বছর ধরে মুম্বাইতে বসবাস ও কাজ করছিলেন।

গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ে বাজার করতে বের হলে তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। এসময়  নিজেকে ভারতীয় দাবি করলেও এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তার কথায় কান দেয়নি।

পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর সাইদা ফকিরকে তার পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৩ জুলাই সেখান থেকে কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া বা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম হওয়ার কারণে আসাম সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশইন বা ঠেলে দেওয়া হয়।

সাইদার পরিবার আরও দাবি করেছে, বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই ভিডিও কলে ভারতে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

image

এ পরিস্থিতিতে সাইদাকে অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে আনার এবং এই বেআইনি পুশব্যাকের সুরাহা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (মাসুম) এবং ভুক্তভোগীর পরিবার। 

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে সাইদা ফকিরের ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পৈতৃক জমির দলিল তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। তবে আদালত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

উল্লেখ্য, মাত্র এক মাস আগেই কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে সোনালী বিবি নামে পুশব্যাকের শিকার আরেক ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।  সে সময় যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ভারতীয় নাগরিকদের এভাবে পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ভর্ৎসনা করেছিল আদালত।

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর