মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে হোয়াইট হাউজে পৌঁছেছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হবে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতা বৈঠক করছেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরান ইস্যু ছাড়াও লেবানন যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনও আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউজের একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত পুনবিবেচনা করার জন্যও ট্রাম্পকে চাপ দেবেন নেতানিয়াহু।
প্রসঙ্গত, এমন সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দুই নেতাই নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।
এছাড়াও সম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্কের অবনতিও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিষয়টিও দুই নেতার মধ্যে বড় মতপার্থক্যের কারণ বলে মনে হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যৌথ সামরিক অভিযানের পর, মার্কিন প্রশাসন জুনে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করে। ট্রাম্প এই কূটনৈতিক পথ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে আমেরিকাকে বের করে আনতে চান।
তবে নেতানিয়াহু তেহরানের শাসনব্যবস্থার পতন বা সম্পূর্ণ সামরিক বিজয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড়। একই সাথে লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যুতে নেতানিয়াহুর আক্রমণাত্মক নীতিতে ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প তুরস্ককে ‘অসাধারণ মিত্র’ আখ্যা দিয়ে তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এর তীব্র বিরোধিতা করলেও ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দেন।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
এমএইচআর




