প্রহ্লাদ যোশীকে ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ায় মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি এমন একজনের ওপর আস্থা রেখেছে, যিনি ‘ধর্ষকদের রক্ষাকারী’।
শনিবার (২৫ জুলাই) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে প্রবল আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপর পাঁচবারের লোকসভা সাংসদ এবং নিজের মন্ত্রিসভার অন্যতম অভিজ্ঞ মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্টে ২০০২ সালের দাঙ্গার সময় বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ এবং তার পরিবারের ৭ সদস্যকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন আসামিকে মুক্তি দেয় গুজরাট সরকার।
এ নিয়ে ভারতজুড়ে ব্যপক ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে তৎকালীন সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী একটি সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, ‘এই মুক্তিতে তিনি ভুল কিছু দেখছেন না এবং এটি সম্পূর্ণ আইন মেনেই করা হয়েছে’।
ওই সময় তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদির কারাগারে থাকার কারণে তাদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে, ফলে তাদের মুক্তি দেওয়া যেতেই পারে।
তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারের ওই ক্ষমার নির্দেশ বাতিল করে দেয় এবং আসামিদের পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, গুজরাট সরকারের এই সাজা মওকুফের কোনো আইনি এখতিয়ার ছিল না।
এদিকে মঙ্গলবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাহুল গান্ধী বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘তরুণ-তরুণীরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই প্রতিবাদ করছিল... তবে বিজেপি এমন একজনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে বসিয়েছে যে ধর্ষকদের রক্ষা করে। সে সবচেয়ে জঘন্য ধরনের মানুষ। যে বলে ধর্ষকদের সুরক্ষার প্রয়োজন, তার চেয়ে জঘন্য মানুষ আর হতে পারে না। আজ ভারতের শিক্ষামন্ত্রী হলেন তিনিই।’
মোদির সমালোচনা করে রাহুল আরও বলেন, ‘এটা অদ্ভুত। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এটা একটা অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া... যে তার মন্ত্রিসভায় এত লোক থাকতে তিনি তাদের মধ্যে যে কাউকেই বেছে নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন যিনি ধর্ষকদের রক্ষা করেন। বেশ আশ্চর্যজনক।’
এরআগে লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের আনা একটি নতুন বিল নিয়ে বিতর্ক চলাকালীনও শিক্ষমন্ত্রী হিসেবে যোশীকে নিয়োগো সমালোচনা করেন রাহুল।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ‘চরিত্র হনন’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, প্রহ্লাদ যোশী কেবল প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন, কোনো অপরাধীকে ব্যক্তিগতভাবে সুরক্ষা দেননি।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




