জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করলেও পরে তা তুলে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কুমামোতো প্রিফেকচারের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায়, যার গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নিশ্চিত করেছেন, ভূমিকম্পের তীব্রতায় অঞ্চলটিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন, একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং বেশ কিছু স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
টোকিওতে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে লোকজন আহত হয়েছে। কিছু এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাট ও সেতুর ক্ষতি হয়েছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হচ্ছে’।
এদিকে দেশটির সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি এইওন শপিং মলও রয়েছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে ৫০ জনেরও বেশি আহত মানুষ ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এনএইচকের ফুটেজে বেশকিছু ভবনে আগুন জ্বলতে এবং আংশিকভাবে ধসে পড়তে দেখা গেছে।
কুমামোটো প্রিফেকচারের উকি শহরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার দমকল বাহিনীর সদর দফতর জানিয়েছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তারা অসংখ্য ফোনকল পেয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র নিক্কেই জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় একটি দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে কিউশুতে সব ধরনের রেল যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়েতে ফাটল ধরার শঙ্কায় সেটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কুমামোতোতে প্রায় ৪৫ হাজার বাড়িঘর ও স্থাপনা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডোকোমো এবং কেডিডিআই মোবাইল নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলে ১ মিটার (৩.২৮ ফুট) উচ্চতার সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল জেএমএ। তবে ভূমিকম্পটি মূলত স্থলভাগের কাছাকাছি হওয়ায় বড় কোনো সুনামি ক্রিয়াকলাপ দেখা যায়নি এবং পরবর্তীতে এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্ভাব্য শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেএমএ।
প্রসঙ্গত, পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয় জাপানে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই দেশটিতে বেশি ভূমিকম্প হয়। দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে দুই হাজারের মতো ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে থাকে। তবে ভূমিকম্পগুলোর অধিকাংশই ক্ষীণ হয়ে থাকে।
সূত্র: এনএইচকে, রয়টার্স
এমএইচআর




