যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক বিমান হামলায় ইরানের অন্তত ১২টি সেতু এবং দুটি টানেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোজাহেরানি এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে সরকারি অবকাঠামোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মার্কিন বিমান ও ড্রোন হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটের সড়ক সেতু ও রেললাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস ও হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকার সংযোগ সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে সড়ক ও সেতু ধ্বংসের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগার বা লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্টে হামলার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন। এছাড়াও মৎস্যজীবীদের নৌকা ও পর্যটন ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান আঘাত করলে প্রতিবারই দেশটির একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এসব হামলা সেই হুমকিরই প্রতিফলন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের ইমসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) যাতায়াত ও সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে এই হামলা চালিয়েছে তারা। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশ এবং বন্দর আব্বাস অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন করে আশার কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা তৃতীয় দিনের মতো উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো হামলা না হওয়ার পর তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে ‘খুবই ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারো সামরিক অভিযান শুরু হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
যদিও তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না।
সোমবার (২৮ জুলাই) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভালো কিছু হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, শুক্রবার তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন, কারণ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আলোচনার জন্য আরেকটি সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছিল। ইরানও তাদের হামলা বন্ধ রেখেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পর এই বিরতি এসেছে। এর ফলে জুন মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে। সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




