শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরোধিতা

ফের জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হলেন ফলকার তুর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

ফের জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হলেন ফলকার তুর্ক

তীব্র কূটনৈতিক জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর জোরালো বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ১১ অক্টোবর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি এখন আরও চার বছর এই পদে থাকবেন।

শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৪৪-১০ ভোটে বিজয়ী হন ফিলিস্তিনের গাজা এবং বৃহত্তর অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের একজন সোচ্চার সমালোচক হিসেবে পরিচিত তুর্ক। যদি তিনি তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করেন, তাহলে ১৯৯৩ সালে এই পদটি তৈরি হওয়ার পর তিনিই হবেন টানা দুটি পূর্ণ মেয়াদে (৮ বছর) দায়িত্ব পালন করা জাতিসংঘের প্রথম মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং আরও ছয়টি দেশ তার পুনঃনির্বাচনের বিরোধিতা করেছিল।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তুর্কের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং ৭ অক্টোবরের ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে আড়াল করার, তহবিলের অপব্যবহার করেছে এবং জাতিসংঘের নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার বিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি জেফ বার্টোস বলেছেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থা কয়েক দশক ধরে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে এবং তুর্ক একে মৃত্যুশয্যায় নিয়ে গেছেন”, কারণ শুক্রবারের ভোটটি “একেবারে শেষ করে দিয়েছে”।

জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিজেই ভলকার তুর্কের নাম পুনরায় প্রস্তাব করেছিলেন, যার জন্য তাকেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গুতেরেস চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘে আঞ্চলিক দলগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে তুর্ককে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান এবং এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এই তড়িঘড়ি ভোটকে ‘জাতিসংঘের অন্তর্নিহিত দুর্নীতি ও অযোগ্যতার আরেকটি উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে। 

এছাড়াও ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করায় মস্কোও তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিল। 

অন্যদিকে  ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বহু দেশ তুর্কের এই পুনঃনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাকে ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সদস্য দেশগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফলকার তুর্ক বলেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা ও সংঘাত মোকাবিলায় মানবাধিকারই সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক এবং তিনি বিশ্বের সব মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবেন।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর