রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দিল্লি পুলিশের ‘ছররা গুলি’তে দৃষ্টিশক্তি হারালেন শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

দিল্লি পুলিশের ‘ছররা গুলি’তে দৃষ্টিশক্তি হারালেন শিক্ষার্থী

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে ছররা গুলি (পেলেট গান) ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দিল্লি পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী, যা দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।  

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ জুলাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি এবং বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে যন্তর মন্তর থেকে দেশটির সংসদ ভবন অভিমুখে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেয় হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্টে পৌঁছানো ঠেকাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পাশাপাশি ছররা গুলি (প্যালেট গান) ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

দিল্লি পুলিশ ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, তারা কোনো ছররা গুলি বা পেলেট গান ব্যবহার করেনি, কিন্তু দিল্লির সরকারি হাসপাতালগুলোর মেডিকেল রেকর্ড বলছে অন্য কথা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ডান চোখে একাধিক ধাতব ছররা বিদ্ধ হয়ে দিল্লির এইমস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী আন্দোলনকারী সাহিল লোচাব। তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ। এ ছাড়াও তার মুখ, বুক ও ফুসফুসেও ছররা গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। 

image
সাহিল লোচাব

অন্যদিকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালেও শেখ মনসুরি নামে আরও এক শিক্ষার্থী চোখসহ বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলির আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তারও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

image
শেখ মনসুরি

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মনসুরির শরীর থেকে প্রায় সব ছররা গুলি বের করে ফেলা হয়েছে। তবে তার গলার কাছে একটি ছররা রয়ে গেছে, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালীর পাশে অবস্থিত। সেখানে হাত দেওয়া বিপদজনক।  

এ ছাড়াও লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর শরীর ও মুখ থেকে অস্ত্রোপচার করে ধাতব ছররা বের করা হয়েছে। 

সবগুলো মেডিকেল রিপোর্টিই আহতদের ক্ষতগুলোকে সরাসরি ‘ছররা গুলির আঘাতের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে ইতোপূর্বে ছররা গুলির ব্যবহার মূলত কাশ্মীরের বিক্ষোভ দমনের ক্ষেত্রে দেখা যেত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই মারাত্মক ও আধা-সামরিক অস্ত্রের ব্যবহার এটাই প্রথম। 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ওই দিনের বিক্ষোভের একাধিক ভিডিও যাচাই করে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ অত্যন্ত বর্বর ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।

এইচআরডব্লিউ-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা আন্দোলনের একাধিক ভিডিও ফুটেজ এবং ছবি নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে যথেচ্ছভাবে লাঠিচার্জ করেছে, জলকামান ব্যবহার করেছে এবং অতর্কিতে বিপজ্জনক ছররা গুলি ছুড়েছে।

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সংস্থাটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিক্ষোভ দমনে ছররা গুলির মতো নির্বিচার আঘাতকারী অস্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এগুলো লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি করে।

এদিকে এ ঘটনায় ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ যারা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

উল্লেখ্য, পুলিশের কড়া দমনপীড়ন এবং ধরপাকড় সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সংসদ ভবনের গেটে আবারও বিক্ষোভ শুরু করেছে আন্দোলনকারীরা।
 
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এমএইচআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর