মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাগত সংস্কারের দাবিতে ভারতজুড়ে চলমান তীব্র আন্দোলনে অংশ না নিতে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে শিক্ষার্থীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
বৃহস্পতিবার ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ সংগঠন- এআইইউ দেশের সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপাচার্যদের উদ্দেশ্যে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।
এরপরই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কোনো আন্দোলন বা প্রকাশ্য বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, ‘প্রিয় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ, আপনাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন যে, ভারতের মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরে যেকোনো বেআইনি সমাবেশ বা বিক্ষোভের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ধরনের কার্যকলাপ ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং তাদের পড়াশোনার অগ্রগতি ও পেশাগত সুযোগের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।’
Dear students and faculty, your safety matters to us. Please note that any unlawful assemblies or demonstrations at Jantar Mantar, New Delhi, which are strictly regulated as per the directives of the Hon’ble Supreme Court of India, may invite legal action. Such activities can…
— University of Delhi (@UnivofDelhi) July 23, 2026
এতে আরও বলা হয়, ‘সকল ছাত্রছাত্রীকে যন্তর মন্তর থেকে দূরে থাকার এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও আইন মেনে চলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়াও, আপনাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ পরিস্থিতিকে আরও উস্কে দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করে ছড়ানো হচ্ছে।’
শুধু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে তাদের ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ করেছে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।
দিল্লির আরেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠার জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ও (জেএনইউ) শুক্রবার সকালে তাদের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জেএনইউ-এর জ্ঞানভিত্তিক সম্প্রদায়ের সকল অংশীদারকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং নিজেদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গণসমাবেশ সংক্রান্ত ভারতের মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে, আপনাদের নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর বা তার আশেপাশে কোনো সমাবেশে অংশগ্রহণ বা গমন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ করুন। এর লঙ্ঘন প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনি পরিণতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধির অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ হতে পারে।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকতে বলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই নির্দেশনা শেয়ার করে শুক্রবার সকালে একটি কড়া ভাষায় লেখা এক্স পোস্টে রাহুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস তোমাদের হয় কী করে? দয়া করে মনে রাখবেন, সময় এলে আপনাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে।’
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই পদক্ষেপ সাবেক ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এদিকে তীব্র আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার অবশেষে নতি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত যোশিকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং তার জায়গায় নরেশ পাল গঙওয়ারকে নতুন শিক্ষা সচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা এখনও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে এবং আজ দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




