ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (এইওআই) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার ভোররাত ৩টা ৩৯ মিনিটে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এই হামলা চালানো হয়। তবে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি সংস্থাটি।
এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও একটি ‘বর্বর কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সুরক্ষাব্যবস্থার অধীনে থাকা একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ২০২২ সালে ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। স্থাপনাটি প্রাথমিক নির্মাণ পর্যায়ে থাকায় সেখানে কোনো পারমাণবিক উপাদান বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ উপাদান না থাকায় আপাতত কোনো রেডিলজিক্যাল বা পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কা নেই।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হুমকি বন্ধ করতে এবং জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহতের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা এই হামলা চালিয়েছে।
এ নিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ হামলায় ইরানের একাধিক দ্বীপসহ বিভিন্ন অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে এই হামলার পরপরই ইরান কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘ক্যাম্প উদাইরি’ এবং ‘আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যার ফলে সেখানে মার্কিন রাডার ও অস্ত্রাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি অভিযোগ, সরাসরি যুদ্ধে সফল না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে হাসপাতাল, সেতু, রেললাইন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এরআগে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ২ জন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ১ জন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু
এমএইচআর




