ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকে তৃণমূলের ওপর দিয়ে একর পর এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
এবার ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের শেড ভাঙল বুলডোজার। ক্রমে সেই যন্ত্রের মাধ্যমে ভাঙা হচ্ছে পাঁচতলা ভবনের দেওয়াল।
শনিবার সকালে সেখানে অভিযানে নামে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। সঙ্গে রয়েছেন দমকলের কর্মী, বিডিও এবং বিএলআরও। অভিযোগ উঠেছে, পাঁচতলা ওই ভবনটি অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে আগেই সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত শুনানিতে কেউ উপস্থিত না হওয়ায় প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শনিবার সকালে অভিষেকের কার্যালয় ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেখানে উপস্থিত হন বিডিও এবং বিএলআরও-সহ প্রশাসন ও দমকলের কর্মীরা। তার পরেই পৌঁছে যায় বুলডোজার। সেটির সাহায্যে কার্যালয়ের সামনে থাকা নীল রঙের শেডটি ভেঙে ফেলা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবনের সামনে শেড ভাঙার পরে ক্রমে ভেঙে দেওয়া হয় সামনের দেওয়াল।
সেখানে ততক্ষণে জড়ো হয়েছেন এলাকাবাসীদের অনেকেই। কেউ কেউ ভবনের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। তাদের ভবনের ভিতর থেকে বের করে দেয় পুলিশ।
গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। নোটিসটি পাঠিয়ে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, মতি মল্লিক এবং সুশান্ত মণ্ডল নামে তিন জনকে সংশ্লিষ্ট দফতরে গত ১৫ জুলাই দুপুর ২টার সময় হাজির হতে বলা হয়েছিল। অমিত অভিষেকের বাবা। নোটিসে তাকে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাতে জানানো হয়েছিল, সুশান্তের অভিযোগের ভিত্তিতে সবাইকে তলব করা হচ্ছে। সব পক্ষকে নিজেদের দাবি বা অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি-প্রমাণ নিয়ে যেতেও বলা হয়েছিল।
নোটিস পেয়েও নির্দিষ্ট দিনে, অর্থাৎ গত বুধবার কার্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে হাজিরা দেওয়া হয়নি। তার পরেই শনিবার সকালে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গত ২৪ মে ইএম বাইপাসের ধারের মাঠপুকুর এলাকায় দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডের উপরে থাকা তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়।
-এমএমএস




