বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন যেন থামার নামই নিচ্ছে না। একের পর এক নেতা, বিধায়ক ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূলে। শুক্রবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও দুটি পরিচিত নাম- বনগাঁ উত্তরের সাবেক বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট-নিউটাউনের সাবেক বিধায়ক ও বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃলমূল সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়।
এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিমে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন বিশ্বজিৎ দাস। বৈঠকের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, কালীঘাট শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন বিশ্বজিৎ। কিছুক্ষণের মধ্যেই একই পথে হাঁটেন তাপস চট্টোপাধ্যায়ও।

বিশ্বজিৎ দাসের রাজনৈতিক জীবনে দলবদলের ইতিহাস নতুন নয়। দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। পরে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও পান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি।
তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই নির্বাচনে বাগদা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ীও হন। কিন্তু গেরুয়া শিবিরে তাঁর রাজনৈতিক সফর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একই বছর তিনি বিধানসভায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ফের তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে বাগদার বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়ে পুনরায় তৃণমূলে যোগ দেন। তাকে আবার বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়।
এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিশ্বজিৎ দাস। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তাকেই প্রার্থী করে তৃণমূল। তবে সেই নির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে অশোক কীর্তনিয়া রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী।
ভোটে হারের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। ফলে শুক্রবার তার আচমকা বিধানসভায় উপস্থিতি এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে দীর্ঘ বৈঠক রাজনৈতিক জল্পনা আরও উসকে দেয়। পরে তার আনুষ্ঠানিক যোগদানে সেই জল্পনারই অবসান ঘটে।
একই দিনে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের যোগদানও ঋতব্রত শিবিরের কাছে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ফলে উত্তর ২৪ পরগনায় সংগঠন আরও মজবুত করতে এই দুই নেতার যোগদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার হাত ছেড়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একে একে যোগ দিতে শুরু করেন দলের বহু হেভিওয়েট নেতা। এমনকি, দীর্ঘদিন ধরে যারা মমতার রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘনিষ্ঠ সাক্ষী ও ভরসাযোগ্য ছিলেন— সেই ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, মদন মিত্র ও অনুব্রত মণ্ডলের মতো শীর্ষ নেতারাও দলনেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেন।
এমএইচআর




