মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় উভয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাবে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জনগণকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এর আগে, ইরানের হামলার কিছু সময় আগে দেশটির কিশ ও কেশম দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন দিনে কিশ ও কেশম দ্বীপে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান।
কেশম দ্বীপ ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ এটি। তেহরানের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া সেখানে বিপুল অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বারবার এই এলাকায় হামলা চালাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে, ইরান যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তাহলে অতীতের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা শহরে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি বলেন, সেই দিন শেষ হয়ে গেছে, যখন কেউ আমাদের আঘাত করত আর আমরা তার দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানতাম না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হলেও গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যেও এখন পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান। মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী। সূত্র: আল জাজিরা
/এএস




