শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরিতে পাকিস্তান থেকে বিপুল মানব গর্ভফুল পাচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরিতে পাকিস্তান থেকে বিপুল মানব গর্ভফুল পাচার

পাকিস্তানে মানব প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা মানব প্লাসেন্টা বিদেশে পাচার করে সেগুলো দিয়ে কথিত অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্য প্রতিরোধী ইনজেকশন তৈরি করা হয়।

এফআইএ জানায়, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ কেজি মানব প্লাসেন্টা উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি প্লাসেন্টা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অবৈধ কারখানায় রূপান্তর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচজনকে। অভিযানের ছবিতে ট্রলিভর্তি ট্রের ওপর শুকিয়ে রাখা বিপুল সংখ্যক প্লাসেন্টা দেখা গেছে।

এদিকে বুধবার ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে ভিয়েতনামগামী আরও ১০০ কেজি মানবদেহের টিস্যু জব্দ করেছে এফআইএ। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি একই চক্রের চালান।

পাকিস্তানের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হিনা কানওয়াল জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতিটি প্লাসেন্টা প্রায় ৮০০ পাকিস্তানি রুপিতে কিনতো। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠানো হতো। এফআইএ’র দাবি, এসব উপাদান দিয়ে তৈরি প্রতিটি অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশনের দাম প্রায় সাত লাখ রুপি পর্যন্ত হতে পারে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়; লাহোর, পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডিসহ আরও কয়েকটি শহরেও তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতাল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রথমে অভিযুক্তরা দাবি করেছিল, তারা ভেড়ার প্লাসেন্টা নিয়ে কাজ করছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে, উদ্ধার হওয়া টিস্যুগুলো মানব প্লাসেন্টা।

চিকিৎসকদের মতে, সন্তান জন্মের পর প্লাসেন্টা সাধারণত সংক্রামক চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে ধ্বংস করা হয় এবং এর জন্য কঠোর নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হয়। কিছু দেশে প্লাসেন্টা থেকে ট্যাবলেট বা ইনজেকশন তৈরির দাবি করা হলেও এসবের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত এবং বিতর্কিত। পাকিস্তানে মানব অঙ্গ বা দেহের অংশ বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ বা পাচারের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর