শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ঐতিহাসিক কারবালায় নেওয়া হবে খামেনির মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ঐতিহাসিক কারবালায় নেওয়া হবে খামেনির মরদেহ

দীর্ঘ চার মাস পর মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী শেষকৃত্য ও দাফন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র নাজাফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় শোক কমিটি কর্তৃক ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী খামেনির মরদেহ মোট ছয়টি শহরে নেওয়া হবে। এরমধ্যে আগামী শনিবার (৪ জুলাই): রাজধানী তেহরানের নির্মাণাধীন ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে তার কফিন নিয়ে শোক মিছিল করা হবে। সেখান থেকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রথমে মরদেহ নেওয়া হবে ইরানের পবিত্র শহর কোমে। এরপর বিমানযোগে সরাসরি ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে। 

নাজাফে ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারে বিদায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ সড়কপথে কারবালার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের ঐতিহাসিক ও পবিত্র শহর কারবালার ‘বাইন আল-হারামাইন’ (ইমাম হুসাইন ও আব্বাস-এর মাজারের মধ্যবর্তী স্থান) এলাকায় সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কারবালা থেকে মরদেহ পুনরায় নাজাফ হয়ে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে। এটিই খামেনির জন্মস্থান এবং সেখানকার বিখ্যাত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। সেখানে তার বাবার কবরও রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথমদিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিহত হন প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় নিহত হন তার পরিবারের আরও অনেক সদস্য। এছাড়াও তার পুত্র ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও এই হামলায় আহত হন। 

মূলত, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজনের প্রক্রিয়াটি বারবার পিছিয়ে যায়। এর আগে এপ্রিল মাসে তার স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ জানাজা ছিল না।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ছয়দিন ব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠান আয়োজনে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। 

প্রসঙ্গত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) এই কারবালায় শাহাদাতবরণ করেন ও সেখানেই তার মাজার শরীফ রয়েছে। শিয়া মুসলমানদের কাছে মক্কা ও মদিনার পরেই এটি অন্যতম পবিত্রতম স্থান।

শিয়া ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, কোনো বড় ধর্মীয় নেতার মরদেহ দাফনের আগে পবিত্র ইমামদের মাজার স্পর্শ বা তাওয়াফ (প্রদক্ষিণ) করালে তা অত্যন্ত বরকতময় হয়। এছাড়াও শিয়া রাজনৈতিক দর্শনে কারবালা কেবল একটি স্থান নয়, এটি ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধ’ এবং ‘আত্মত্যাগ’-এর সবচেয়ে বড় প্রতীক।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর