সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ক্রিপ্টো ব্যবসায় এক বছরে ট্রাম্পের আয় শতকোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদকের টাকার জন্য সেজদারত মাকে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে একশ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছেন। তিনি ও তার পরিবার ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স’ বা ডব্লিউএলএফ নামের একটি ক্রিপ্টো স্টার্টআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএস অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিকস’-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুধু ডব্লিউএলএফ-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে ট্রাম্প প্রায় ৫৫ কোটি ডলার আয় করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ও তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরিবারের সদস্যরা মিলে এই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ডলার ট্রাম্প’ নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সির লাইসেন্স চুক্তি বাবদ তিনি ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ক্রিপ্টোকারেন্সিটি বাজারে ছাড়া হয়েছিল।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিপ্টো খাতের এই আয় থেকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৩০ কোটি ডলার। যা এখন ৬৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ী থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্প নিয়মিতই ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আসছেন। সমালোচকদের দাবি, তিনি নিজে ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও এই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিলের মতো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। আর এতেই ডিজিটাল এই মুদ্রার দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।

তবে হোয়াইট হাউস নীতিগত অবক্ষয়ের এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিংবা তার পরিবার কখনোই কোনো স্বার্থের সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ভবিষ্যতেও থাকবেন না।

কেলি আরও বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে পরিণত করেছেন। ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সব সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণের স্বার্থে নেওয়া হয় এবং এ নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে পুরোনো রাজনৈতিক প্রচারণার পুনরাবৃত্তি।

ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তিনি ফেডারেল স্বার্থসংঘাত-সংক্রান্ত আইনের আওতায় পড়েন না।

ক্রিপ্টো নিয়ে অবস্থান বদল

একসময় ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির সমালোচক ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ এবং ‘একটি আসন্ন বিপর্যয়’ বলেছিলেন। কিন্তু তিন বছর পর নির্বাচনী প্রচারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তার প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ক্রিপ্টো শিল্পের ‘দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি’ সমর্থনে নির্বাহী আদেশ জারি করা।

সাবেক হোয়াইট হাউস নীতিশাস্ত্র আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেন, ‘ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের ১০০ কোটি ডলার আয় করা অসাধারণ ঘটনা। অবশ্যই এটি স্বার্থের সংঘাত।’

রেমন্ড জেমস ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ–এর কর্মকর্তা উইল ওয়াকার-আর্নট বলেন, ‘আগের প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্পের অর্থ উপার্জনের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন।’

তিনি উদাহরণ দেন যে জিমি কার্টার তার বাদাম খামার ব্লাইন্ড ট্রাস্টে দিয়েছিলেন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে টেক্সাস রেঞ্জার্সে নিজের অংশীদারত্ব বিক্রি করেছিলেন।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর