রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও জানান, রাজ্যের ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া বক্তৃতায় এই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন অবস্থান করছেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। আমরা প্রতিদিন অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছি।’ 

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে এ বিষয়ে ভারতীয় নাগরিকদের (যাদের ভোটার আইডি, আধার কার্ড ও অন্যান্য বৈধ নথি রয়েছে) উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের, তারা যে ধর্মেরই হোন না কেন, চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনেই রাজ্য সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত।’

যারা স্বেচ্ছায় ভারত ছাড়তে চান, হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘ইতিমধ্যেই অনেক অভিবাসী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে দেশ ছেড়েছেন। যারা স্বেচ্ছায় যেতে চান, তারা যেতে পারেন।’ 

বিজেপি সরকারের এই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে তারের বেড়া নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত বিএসএফকে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়া হবে। 

প্রসঙ্গত, মাত্র দেড় মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধীকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের চালু করা “শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং নির্বাসন” নীতির অংশ হিসেবে নথিপত্রহীন মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে পুশইন ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে গভীর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। 

মূলত, বিজেপি সরকার রাজ্যের নথিপত্রহীন মুসলিম অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে। এই অভিযানটি শুধু বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় মুসলমানদের একাংশের মধ্যেও এই আশঙ্কা জাগিয়েছে যে, তারাও এমন একটি অভিযানের শিকার হতে পারেন, যে অভিযানটি তার লক্ষ্যবস্তুদের আইনি মর্যাদার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেও সমানভাবে পরিচালিত বলে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অনৈতিক” বলে আখ্যা দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, বিজেপির এই নিপীড়ন, সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশকে জাতিগত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশটির ২০ কোটি মুসলমানকে প্রান্তিকীকরণ ও নিপীড়নের বৃহত্তর নীতিরই অংশ।

বিশ্বের অন্যতম মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

এই নির্বাসনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা ‍দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, সেইসব আটককৃতদেরও আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে কোনো ভারতীয় নাগরিককে অন্যায়ভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা না হয়।’


সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর