শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সুইজারল্যান্ডের পথে ট্রাম্পের দূত, ইরান থেকে যেতে পারেন আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

সুইজারল্যান্ডের পথে ট্রাম্পের দূত, ইরান থেকে যেতে পারেন আরাঘচি

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইরানের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি দুই দূত প্রস্তুত।

ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছেন। ইউরোপের পথে রওনা দিয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। 


বিজ্ঞাপন


আমেরিকার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়স সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্য দিকে, ইরানের প্রতিনিধি হিসাবে আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে থাকতে পারেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। 

শনিবারই তার ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। তবে সূত্রের দাবি, এই পরিকল্পনাও শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার স্মারকলিপি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়ে গিয়েছে। ১৪ দফার সেই এমওইউতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্বাক্ষর করেছেন স্বয়ং ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের সমঝোতার প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়। ভান্সও শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেন। তার পর থেকেই বৈঠক নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। 


বিজ্ঞাপন


আলোচনা পিছিয়ে দেওয়ার কোনও কারণ হোয়াইট হাউস না-জানালেও লেবাননে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর সংঘাতই সমঝোতার পথে প্রধান ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

শুক্রবার সেই ‘কাঁটা’ সরে যায়। দুই দেশই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ফলে আমেরিকা এবং ইরানের আলোচনায় বসতে আর কোনও বাধা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত রোববার গভীর রাতে ইরান এবং আমেরিকার সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে বলে ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ওয়াশিংটন এবং তেহরানও তা নিশ্চিত করে। কিন্তু লেবাননে সংঘর্ষের কারণে সমঝোতা নিয়ে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছিল। 

নতুন করে হিজবুল্লাহ চার ইসরায়েলি সৈন্যকে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠে। তার প্রতিবাদে দক্ষিণ লেবাননে বোমাবর্ষণ করে নেতানিয়াহুর বাহিনী। মৃত্যু হয় ৪৭ জনের। 

লেবাননে ইসরায়েল আগ্রাসন না-থামালে কোনও সমঝোতা হবে না, হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল ইরান। ট্রাম্প কথা বলেছিলেন ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তার পরেই শুক্রবার লেবানন থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। 

আমেরিকা এবং কাতারের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায়। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের সূত্র যুদ্ধবিরতির কথা নিশ্চিত করেছে।

সুইজারল্যান্ডের বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নেওয়া বা লেবাননে শান্তি ফেরানোর মতো বিষয়গুলিতে একমত হওয়া গেলেও পরমাণুর বিষয়ে এখনও কোনও সমঝোতায় আসতে পারেনি ইরান এবং আমেরিকা। 

সংঘাতের চূড়ান্ত সমাপ্তি তাই নির্ভর করছে সুইজারল্যান্ডের বৈঠকের ওপরই। তবে এর আগে পাকিস্তানে একবার দুই দেশ মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিল। তা ব্যর্থ হয়েছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর