শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে ছিলেন না মোজতবা খামেনি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে ছিলেন না মোজতবা খামেনি!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির পক্ষে ছিলেন না বা আপত্তি ছিল তার। তবে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় খামেনি বলেছেন, “ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘সহানুভূতি ও সদিচ্ছা’ থেকে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছানোর পর পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেছেন।” 


বিজ্ঞাপন


খামেনি বলেন, “মূলত, আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ছিল, কিন্তু সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করেছেন যে এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানি জনগণের অধিকার ও ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের’ (হিজবুল্লাহ) স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং এ বিষয়ে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করে আমি অনুমতি দিয়েছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, ‘এই চুক্তি তেহরানের আগ্রহে নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হতাশা, দুর্বলতা ও সব ধরনের চাপ প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টা থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে হয়েছে’।

ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা জানান, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তির বাইরে গিয়ে কোনো অতিরিক্ত চাপ বা লোভনীয় শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান তা কোনোভাবেই  বরদাস্ত করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে খামেনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে আমরা—মহান ইরানি জাতি এবং এই অধম সেবক—সেই শর্তগুলো পূরণের জন্য অপেক্ষা করব। তবে এটা স্পষ্ট যে ভবিষ্যতে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) অনুষ্ঠিত যেকোনো সরাসরি আলোচনায় শত্রুপক্ষের কোনো অবস্থান মেনে নেওয়া হবে না’। 


বিজ্ঞাপন


প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। বুধবার এটি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে স্বাক্ষর করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকারীদের একজন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

এই সমঝোতার পর এখন ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে। এতে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান। 

সূত্র: আনদোলু, আলজাজিরা

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর