শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম

শেয়ার করুন:

Gold News
- ফাইল ছবি

শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিতের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। এতে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। আন্তর্জাতিক বাজারে এ প্রবণতার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ২৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৭ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি স্বর্ণ বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। মার্কিন ডলার এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে চাহিদা কিছুটা কমেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা কার্যকর হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানো কিংবা কঠোর নীতিমালা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে।


বিজ্ঞাপন


সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী বৈঠকে মার্কিন ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যতে হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফেডের প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে নয়জন চলতি বছর আরও সুদহার বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন।

তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী রয়েছে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স ডিসেম্বরের মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও এটি তাদের আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি এখন আর চলতি বছরে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমার কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের দামের ওঠানামা সাধারণত দেশের বাজারেও প্রভাব ফেলে। সে কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সবশেষ গত ১৮ জুন স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করে বাজুস। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা ও মজুরিভেদে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩২ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ৮৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর