বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রোহিঙ্গাদের বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী ঘোষণা জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বের রাষ্ট্রহীন মানুষের ৪১ শতাংশই রোহিঙ্গা: জাতিসংঘ

মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গাদের বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছে জাতি সংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর। 

গত ১১ জুন প্রকাশিত ইউএনএইচসিআর-এর সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বে আনুমানিক ৪৫ লাখ মানুষ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। এ বিপুল সংখ্যক মানুষদের প্রধান আশ্রয়দাতা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার এবং কোত দিভোয়ার।


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে ৪৫ লাখ রাষ্ট্রহীন মানুষের ৪১ শতাংশই হলো রোহিঙ্গা, যার সংখ্যায় প্রায় ১৮ লাখ। সেই ১৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ১২ লাখই বর্তমানে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন।

ইউএনএইচসিআর-এর নিয়ম অনুযায়ী কোনো নিশ্চিত সমাধান ছাড়া ৫ বছরের বেশি নির্বাসিত থাকলে তাকে দীর্ঘস্থায়ী সংকট বলা হয়। বিশ্বের প্রতি ১০ জন শরণার্থীর ৭ জনই এই পরিস্থিতির শিকার, যার বড় উদাহরণ রোহিঙ্গারা। কারণ নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার না থাকায় এই বিপুল জনগোষ্ঠী বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্থায়ী জীবনযাত্রার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

image

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উদারভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আর আগে থেকেই আছে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। এতে কক্সবাজারে মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এলাকা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। পরে গত কয়েক বছরে আরও প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ স্থানের অন্যতম করে তুলেছে।


বিজ্ঞাপন


ইউএনএইচসিআর বলছে, মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং দেশটি এখনো বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। দেশটির চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন, যাদের তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদী বাস্তুচ্যুতি এবং রাষ্ট্রহীনতা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা- বিশেষ করে ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার জন্য একটি রূপরেখা ঘোষণা করেছে ইউএনএইচসিআর।

 

এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর