বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর নিজ আসন কলকাতার ভবানীপুর আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কলকাতা হাইকোর্টে এই নিয়ে মামলা করলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আচমকাই হাইকোর্টে পৌঁছে ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপি হওয়ার অভিযোগ তুলে হলফনামা দাখিল করেন মমতা। সঙ্গে ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন, দোলা সেন।
বিজ্ঞাপন
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপির প্রার্থী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হরিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে কখনও হারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরে মমতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, গণনার সময় কারচুপি করা হয়েছে। তবে সেই মামলা আজও কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন, তার কোন নিষ্পত্তি হয়নি।
যদিও সেবারের নির্বাচনের পরাজয়ের পরে নিজের বাড়ির এলাকা ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। তৃণমূল বিজয়ী হয় ৮০টি আসনে। এর ফলে ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিধানসভার স্পিকারের বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলের দায়ের করা মামলার আজ দ্বিতীয় দফার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে। এই মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
তার অভিযোগ, স্পিকারের মাধ্যমে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক বিধি এবং বিধানসভার নির্দিষ্ট নিয়মাবলী চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে স্পিকারের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা খতিয়ে দেখার এবং তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার প্রথম দফার শুনানিতে আদালত এই মামলার ওপর কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেনি।
সূত্র: আনন্দবাজার, বিবিসি বাংলা
এমএইচআর




