ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পর দেশটির বন্দরগুলো থেকে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইরানের বন্দর থেকে ৩টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং ২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজসহ মোট ৫টি জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করেছে, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সদ্য চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রথম কার্যকরী বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করে তেহরান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্ভরযোগ্য সামুদ্রিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে কয়েক মাস ধরে আটকে থাকা জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করেছে।
এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিবালয় নিশ্চিত করেছে, তেহরান এবং ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধ করতে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এর মাধ্যমে লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সংঘাত অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর পরপরই পরবর্তী পর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল-গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জবাবে এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর এই নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা প্রায় তিন মাস ধরে কার্যকর ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির ফলে এখন থেকে ইরানের তেল ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো ইরানি এবং আন্তর্জাতিক উভয় জলসীমায় সম্পূর্ণ অবাধে চলাচল করতে পারবে।
সূত্র: মেহের নিউজ
এমএইচআর




