পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় বিরোধী ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঘটনা এই ঘটনাকেই আরও উস্কে দিচ্ছে। এবার নজরে বাজেট। আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন। আর তার ঠিক আগে, মঙ্গলবার বিধানসভায় ডাকা কার্য উপদেষ্টা কমিটি বা বিএ কমিটি এবং সর্বদলীয় বৈঠককে কেন্দ্র করে তৈরি হল নতুন বিতর্ক।
সবচেয়ে বড় চমক, বিধানসভার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাকই পেলেন না তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কুণাল ঘোষদেরও। উল্টো বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি তৃণমূলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকট। এর মধ্যেই বিধানসভায় এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই বিধানসভার অলিন্দে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। এবার কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে সরাসরি ঋতব্রতকে আমন্ত্রণ জানানো সেই ঘটনাকেই ফের একবার উস্কে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিটির বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে হুমায়ুন কবীর, নওশাদ সিদ্দিকী এবং মুস্তাফিজুর রহমানদের।
সম্প্রতি তৃণমূলের ৬৫ জন বিধায়ক বিধানসভার স্পিকারের কাছে বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দাবি জানিয়েছিলেন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত। এই বিক্ষোভের জোয়ারে তৃণমূলের অন্যতম বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংখ্যালঘু বিধায়কদের অবস্থান। জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, সাবিনা ইয়াসমিন, আখরুজ্জামানদের মতো জোড়াফুলের প্রাক্তন সংখ্যালঘু মন্ত্রী ও বিধায়করা দলে দলে এই বিক্ষুব্ধ শিবিরে শামিল হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার বিএ কমিটি এবং সর্বদলীয় বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়দের ডাক না পাওয়া এবং ঋতব্রত শিবিরকে আমন্ত্রণ জানানোর অর্থ অত্যন্ত স্পষ্ট। বিধানসভা সচিবালয় সংখ্যার নিরিখে নতুন সমীকরণকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। এখন দেখার, বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন এই নয়া সমীকরণ বিধানসভায় কী রূপ নেয়।
সূত্র: দ্য ওয়াল
এমএইচআর




