বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

তৃণমূলের দেব সায়নী রচনারা নতুন ব্লক গড়তে চায়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

তৃণমূলের দেব সায়নী রচনারা নতুন ব্লক গড়তে চায়!

পরিষদীয় দলের পর তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের জল্পনা জোরদার হয়েছে। এই আবহে তৃণমূলের ১৯ জন এমপির স্বাক্ষর সংবলিত কয়েকটি পাতা প্রকাশ্যে এসেছে। 

তৃণমূলের বিদ্রোহী এমপিদের ঘনিষ্ঠমহল জানায়, ওই ১৯ জন এমপি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে আলাদা ব্লক গঠনের আর্জি জানিয়েছেন। 


বিজ্ঞাপন


যদিও স্বাক্ষর সংবলিত ওই পাতাগুলি চিঠির অংশ কি না, সেটি চিঠি হলে আদৌ স্পিকারকে পাঠানো হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিদ্রোহী এমপিদের স্বাক্ষর সংবলিত যে পাতা প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে ১৯ জনের সই রয়েছে। যে কাগজ প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে প্রথমেই স্বাক্ষর রয়েছে বারাসতের তৃণমূল এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। 

তার স্বাক্ষরের পাশে লেখা হয়েছে ‘চিফ হুইপ’ অর্থাৎ মুখ্যসচেতক। ক্রম অনুযায়ী, তার পরেই স্বাক্ষর রয়েছে বীরভূমের এমপি শতাব্দী রায়ের। তার স্বাক্ষরের পাশে লেখা ডেপুটি লিডার অর্থাৎ উপদলনেতা। ক্রমানুসারে তার পর স্বাক্ষর করেছেন মথুরাপুরের এমপি বাপি হালদার, বর্ধমান পূর্বের এমপি শর্মিলা সরকার, হাওড়ার এমপি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের এমপি জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল ও বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী।

৯ নম্বরে স্বাক্ষর করেছেন ঝাড়গ্রামের এমপি কালীপদ সরেন। ক্রমানুসারে তার পর স্বাক্ষর রয়েছে ঘাটালের দীপক অধিকারী ওরফে দেব, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিকের। 


বিজ্ঞাপন


প্রকাশিত চিঠিতে ১২ নম্বরের পর ১৩ নম্বরে কারও নাম নেই। ১৪ নম্বরে নাম রয়েছে জঙ্গিপুরের এমপি খলিলুর রহমানের। তার পর অবশ্য ক্রমানুযায়ী রয়েছেন মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, আরামবাগের মিতালি বাগ এবং কলকাতা দক্ষিণের মালা রায়।

ক্রমতালিকা অনুযায়ী না-থাকলেও দু’টি পৃথক জায়গায় স্বাক্ষর রয়েছে হুগলির এমপি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের এমপি সায়নী ঘোষের। বিদ্রোহী এমপিদের একটি সূত্রের দাবি, রচনা এবং সায়নী পরে স্বাক্ষর করেছেন।

ওই সূত্র মারফত এ-ও জানা গিয়েছে যে, স্পিকারকে চিঠি দিয়ে ১৯ জন এমপি জানিয়েছেন যে, কাকলির নেতৃত্বে তাদের আলাদা ব্লক হিসাবে গণ্য করা হোক। 

এই চিঠি স্পিকার পেয়েছেন কি না, পেলেও কবে পেয়েছেন, এই বিষয়ে স্পিকারের সচিবালয়ের সূত্র মারফত এখনও কিছু জানা যায়নি। 

বিদ্রোহী সাংসদদের সূত্র মারফত আগেই জানা গিয়েছিল, তারা বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয় এবং পরিষদীয় দলে বিদ্রোহের পরেই রাজ্যে দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছিল তৃণমূল। ৫ জুন কালীঘাটে একটি বৈঠকের পর নতুন কমিটি গড়েন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

নতুন কমিটিতেই যুব সংগঠনের দায়িত্বে সায়নীকে বহাল রাখা হয়েছিল। মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী পদে আনা হয় মালাকে। ঘটনাচক্রে, এই দুই এমপিই বিদ্রোহী শিবিরে শামিল হয়েছেন। 

বিধায়কদের পর সাংসদদের বড় অংশও বিদ্রোহী হওয়ায় আগেই অস্বস্তি বেড়েছিল তৃণমূলের। সেই অস্বস্তি আরও বাড়ল। তৃণমূল সূত্রে খবর, মালা-সায়নীদের উপর যে দলের নিয়ন্ত্রণ আর নেই, তা কয়েক দিন আগেও বুঝতে পারেননি শীর্ষ নেতৃত্ব।

এই আবহে বিদ্রোহী এমপিদের সই যাচাই করার দাবি তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, সাংসদদের সই বলে যে তালিকা ঘুরছে, লোকসভার অধ্যক্ষের দফতরের তরফে সেগুলি সংসদে জমা থাকা ‘স্পেসিমেন সিগনেচারের’ সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হোক। কিছু সই কি স্পেসিমেন সিগনেচারের সঙ্গে মিলছে? দিল্লি সূত্র বলছে, মিলিয়ে দেখা জরুরি।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর