আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (১ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের মালিক) হয়ে ইতিহাস গড়লেন মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নিমার্তা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। নিজের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) মাধ্যমে তিনি এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১২ জুন) বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ারবাজার নাসডাকে প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে স্পেসএক্স, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও। এই আইপিও-এর পর স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন বা এক লাখ ৭৭০ কোটি ডলার।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে তালিকাভুক্তির পর মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস-বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন।
আইপিও পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের কাগুজে মূল্য প্রায় ৮৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আর টেসলায় প্রায় ৭১ কোটি ৭১ লাখ শেয়ার রয়েছে মাস্কের। বৈদ্যুতিক গাড়ি নিমার্তা প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক শেয়ারমূল্য ৩৯৯ দশমিক ১৫ ডলার ধরে মাস্কের শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৮৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
দুই প্রধান কোম্পানিতে শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে মাস্কের মোট অর্থের পরিমাণ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা এক ১ লাখ কোটি ১০ হাজার কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে, যা তাকে ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি, রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই ইলন মাস্ক নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন নতুন উচ্চতায়।
বিজ্ঞাপন
বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইনফরমা কানেক্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ১১০ শতাংশ হারে বাড়ছে মাস্কের সম্পদ। তবে প্রতিযোগিতায় তিনি একা নন।
সংস্থাটির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংও ২০২৮ সালের মধ্যে ট্রিলিয়নিয়ার হতে পারেন।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস
এমএইচআর




