সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

দিল্লিতে মমতা-অভিষেক, ‘গোপন’ বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

দিল্লিতে মমতা-অভিষেক, ‘গোপন’ বৈঠক তৃণমূলের বিদ্রোহীরা!

তৃণমূলের ভাঙনের আঁচ এবার কলকাতা থেকে পৌঁছে গেল দিল্লিতেও। একটি সূত্র বলছে, রোববার (৭ জুন) রাতে দিল্লির কোনও এক গোপন স্থানে দলের প্রায় ২০ জন সাংসদ বৈঠকে বসেছেন। 

ঘটনাচক্রে, যখন এই বৈঠক চলছিল, তখন দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে রয়েছেন তারা। 


বিজ্ঞাপন


বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে আটজন এমপিকে দেখা গিয়েছে। যদিও সূত্র বলছে, ২০ জন এমপি উপস্থিত ছিলেন। 

তৃণমূলেরই একটি সূত্র বলছে, এক নারী এমপিদের না জানিয়ে সেই ছবি তোলা নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডাও হয়েছে বৈঠকে।

দিল্লিতে গোপন স্থানে ওই গোপন বৈঠকে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা করছিলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ এমপিরা? একটি সূত্র বলছে, দু’টি সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এক, স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি দিয়ে জানাবেন যে, তাদের নেতা আর অভিষেক নন। তাদের এবার থেকে সংসদে ‘ভিন্ন গোষ্ঠী’ বলে চিহ্নিত করা হোক। 


বিজ্ঞাপন


দুই, গণইস্তফা দেওয়া যায় কি-না, তা নিয়েও উপস্থিত এমপিরা আলোচনা করেছেন বলে দাবি একটি সূত্রের। দু’টির একটি সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হলে দিল্লিতে বসে বড়সড় ধাক্কা খেতে পারেন মমতা। ‘ইন্ডিয়া’ জোটে আরও কোণঠাসা হতে পারে।

বৈঠকের যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, সেখানে ছিলেন বর্ধমান পূর্বের এমপি শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সোরেন, বোলপুরের অসিত মাল। 

একটি সূত্র বলছে, বৈঠকে ছিলেন মথুরাপুরের এমপি বাপি হালদারও। ছবিতে দেখা গিয়েছে রাজ্যসভার এমপি সুখেন্দুশেখর রায়কেও। 

সোমবার সকালেই দিল্লি থেকে সুখেন্দু জানান, তিনি তৃণমূল এবং রাজ্যসভার এমপি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। 

সুখেন্দুশেখরের দাবি, দলের অন্দরে দুর্নীতি এবং দল নিয়ে মানুষের ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই পতন ছিল অনিবার্য। সুখেন্দুর এই ইস্তফার পরে বৈঠক নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

একটি সূত্র বলছে, বৈঠকে উপস্থিত এক নারী এমপি সেখানকার ছবি তুলে নেন। দক্ষিণবঙ্গের এক এমপি সেই ছবি তোলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। 

বৈঠকে উপস্থিত এমপিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, যিনি ছবি তোলেন, তিনি দাবি করেন, সেটি ‘শাহজির’ কাছে পাঠাতে হবে। তাতে দক্ষিণবঙ্গের ওই এমপি জানান, ছবি যে তোলা হচ্ছে, তা আগে জানানো উচিত ছিল। 

এই নিয়ে বৈঠকে বাক্‌বিতণ্ডা চলে বলে খবর। সোমবারও কেন্দ্রীয় সরকারের একটি দফতরে কয়েক জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল এমপি এক সঙ্গে রয়েছেন। তারা কথাবার্তা বলছেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূলের আর এক এমপি সৌগত রায় বলেন, বিজেপির পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, বলেছিলাম পরে জানাব। পরে না করে দিয়েছি। বলেছি, আমি তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছি।

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক-এমপি, নেতাদের একটা বড় অংশ আঙুল তুলেছেন মূলত অভিষেকের দিকে। তবে মমতা আস্থা রাখের অভিষেকের উপরেই। 

‘বিদ্রোহ’ এবং ‘বিরোধিতা’ সত্ত্বেও অভিষেকই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন। তবে তার সঙ্গে সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয় রাজ্যসভার দুই এমপি দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। 

তার পরে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়। একটি সূত্র বলছে, তৃণমূলের এক এমপি মুম্বইয়ে ছিলেন। সেখান থেকে শনিবার তার কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। 

আচমকাই ফোন বন্ধ করে মুম্বাই থেকে দিল্লি চলে যান তিনি। গোপন আস্তানায় তৃণমূলের ওই বৈঠকে ছিলেন তিনিও।

রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যে তৃণমূলের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা না মেনে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেন কয়েক জন বিধায়ক। 

মোট ৫৯ জনের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জল্পনা চলছে, পরিষদীয় দলের পর একই ধাঁচে ভাঙতে চলেছে তৃণমূলের সংসদীয় দলও। 

তারই প্রথম ধাপ হিসাবে দিল্লিতে গোপন স্থানে বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলের ২০ জন এমপি।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর