ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের ওপর দিয়ে যেন সুনামি বয়ে যাচ্ছে।
দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের ছোট, মাঝারি থেকে বড় নেতা। প্রায় সবারইকে গ্রেফতারের পরই একটি ছবি দেখা যাচ্ছে- ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে দিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভ।
বিজ্ঞাপন
কোথাও কোথাও ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ করছেন কেউ কেউ। এই পরিস্থিতিতে হুগলির নবগ্রামে বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের দুই নেতা! ‘বালতি চোর’ বলে তাদের কটাক্ষ করলেন বিরোধীরা।
শ্রীরামপুরের নবগ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে একশোর বেশি প্লাস্টিকের বালতি পড়ে থাকতে দেখা যায়। আগের তৃণমূল সরকারের প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ লেখা স্টিকার লাগানো সব ক’টি বালতির গায়ে।
বর্জ্য ফেলার জন্য সাধারণ মানুষকে ওই বালতিগুলো দেওয়ার কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেগুলো এতদিন পর্যন্ত তৃণমূল নেতারা নিজেদের বাড়িতে রেখে দিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এখন বিপদ বুঝে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ফেলে পালিয়ে গিয়েছেন। শুক্রবার রাতে ওই নিয়ে শোরগোল শুরু হয় পঞ্চায়েত অফিসের সামনে। পরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা বালতিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকল্পের সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হতো।
হঠাৎ করে এত বালতি কীভাবে পঞ্চায়েত চত্বরে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর মাঝে বালতি চুরির অভিযোগে শ্রীরামপুরে রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সেখানে তৃণমূলের কার্যালয়ে বালতি, সাদা থান, মশারি ইত্যাদি মজুত থাকতে দেখে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি।
আটক তৃণমূল নেতা মোহন মণ্ডল এবং বিষ্ণু মণ্ডলের দাবি, এলাকার মানুষকে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল জিনিসগুলো।
ভোটের সময় বিলি করা যাবে না বলে ‘নিরাপদ জায়গায়’ রেখে দিয়েছিলেন। ভোটের ফলপ্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের হাতে সেগুলো তুলে দেওয়ার আগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
-এমএমএস




