ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আবারো উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শান্তি ফেরানোর উদ্যোগের মাঝেই হিজবুল্লাহ স্পষ্টভাবে এই চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
গোষ্ঠীটির দাবি, প্রস্তাবিত শর্তগুলো লেবাননের জন্য অপমানজনক এবং কার্যত ‘আত্মসমর্পণের’ শামিল। এদিকে বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
এমন এক সময়ে এমন মন্তব্য আসে, যখন ইসরায়েল ও লেবানন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুনর্নবীকরণের ঘোষণা দেয়। ওই চুক্তিতে লেবাননের ভেতরে ‘পাইলট’ নিরাপত্তা অঞ্চল গঠনের কথা বলা হয়, যেখানে হিজবুল্লাহ সদস্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তিটি কার্যকর হবে শুধুমাত্র হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধ বন্ধ করলে।
কিন্তু আলোচনায় অংশ না নেওয়া হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম বৃহস্পতিবার বলেন, এই ‘কথিত যুদ্ধবিরতি’ আসলে হিজবুল্লাহকে যুদ্ধ বন্ধ করে দক্ষিণ সীমান্ত থেকে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা, যা কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল এবং ইসরায়েলের লক্ষ্য পূরণ করবে।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর—হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি দাহিয়েহেয়েও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন দোকানদার বলেন, ‘একপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি হতে পারে না, এটা হয় উভয় পক্ষের, না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি নয়।’
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, বৃহস্পতিবারও সেখানে হামলা হয়েছে। যদি এটি যুদ্ধবিরতি হয়, তাহলে এগুলো কী?
‘এটা শান্তি নয়, এটা আত্মসমর্পণ’- বলেন তিনি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা হাদি বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। তার ভাষায়, ‘আমার প্রজন্ম, বাবার প্রজন্ম, দাদার প্রজন্ম—কেউই কোনো আশার আলো দেখেনি।’
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনায় বলা হয়, হিজবুল্লাহ সদস্যদের ইসরায়েল সীমান্ত ও লিতানি নদীর মধ্যবর্তী প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হবে। ওই এলাকায় বর্তমানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী অবস্থান করছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘পাইলট জোন’ তৈরিতে সহায়তা করবে, যেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী এককভাবে নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকবে না।
তবে চুক্তিতে এসব এলাকার নির্দিষ্ট মানচিত্র বা বাস্তবায়নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিল না।
এই সমঝোতা আসে সোমবার ঘোষিত আংশিক যুদ্ধবিরতির পর, যেখানে বলা হয় ইসরায়েল বৈরুত শহরে বোমাবর্ষণ বন্ধ করবে, বিনিময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা বন্ধ করবে।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা আগামী ২২ জুন আবার বৈঠকে বসবে, যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন সরকার হয়তো আশা করেছিল এই আলোচনায় হিজবুল্লাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। কিন্তু গোষ্ঠীটি নিজেকে শান্তির একমাত্র প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ‘বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অভিযান ও হামলা অব্যাহত রাখবে।’
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বৃহস্পতিবার একাধিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এমআর




