ইরানের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে ওমানকে তীব্র চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ও আরব কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে (ব্যাকচ্যানেল) যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন ওমানের কর্মকর্তারা। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ফের আকাশপথ খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তবে ওমানের দীর্ঘদিনের এই ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ অবস্থানকে মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন এবং দেশটিকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মূলত, একটি নতুন মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, ওমান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে যৌথভাবে টোল বা মাশুল আদায়ে ইরানের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। যদিও এমন পরিকল্পনার কথা বারবার অস্বীকার করেছে ওমান।
এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ওমানকে অবিলম্বে ইরানের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন, অন্যথায় ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ বা সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি বিভাগ) স্পষ্ট করেছে, ওমান যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায় প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়, তবে ওমানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
এদিকে ওমান মার্কিন প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে মার্কিন চাপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওমান সরকার। তবে দেশটির তথ্যমন্ত্রী আল-হারাসি জানিয়েছেন, একটি অশান্ত অঞ্চলে আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং উত্তেজনা কমানোই দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কাজ। তারা তেহরানের সঙ্গে ব্যাক-চ্যানেল যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন মূলত যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্দেশ্যে।
এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরমাণু-সংক্রান্ত আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল ওমান। কিন্তু যুদ্ধ শুরু পর হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এবং এ অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরেও ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানায়নি ওমান। তাদের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক সহযোগী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবকেও ক্ষুব্ধ করেছে।
আরব কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের সময়ে অন্য প্রতিবেশীদের তুলনায় ওমানের উপর অনেকটাই কম আক্রমণাত্মক ছিল ইরান। এমনকি ওমানের বন্দরে ইরানের ড্রোন আছড়ে পড়ার পর তারা ঘটনার কথা স্বীকার করলেও এর জন্য তেহরানকে সরাসরি দায়ী করেনি মাসকট।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন এই চাপ ও নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর ব্ল্যাকমেইল হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




