তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলায় উৎপাদন হ্রাসের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিমানের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল রফতানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়া। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
সোমবার (১ জুন) রুশ সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সক্রিয় আন্তঃসরকারি চুক্তি বজায় রাখা দেশগুলোতে সরবরাহ এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
রাশিয়া প্রধানত রেলপথে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ায় জেট ফুয়েল রফতানি করে থাকে।
রুশ পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রেই নিকিতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে জেট ফুয়েলের কোনো ঘাটতি নেই এবং এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের বিমান সংস্থাগুলোর স্বার্থেই আরোপ করা হয়েছে’।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে গ্যাসোলিন বা পেট্রোল রফতানির ওপর আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মস্কো। কিন্তু ডিজেলের বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যদিও গত সপ্তাহে ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া জ্বালানি তেল রফতানি ঠেকাতে ইউক্রেন গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে।
বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের তথ্যমতে, রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের এসব হামলার কারণে দেশটির মোট পেট্রোল উৎপাদন ৩০ শতাংশ এবং ডিজেল উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে প্রক্রিয়াকরণের পরিমাণ দৈনিক ৪৬.৯ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন।
সূত্র: রয়টার্স, মস্কো টাইমস
এমএইচআর




