আগামী সপ্তাহে দ্বিবার্ষিক মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বাহিনীর মধ্যে এটিই হবে প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি বিএসএফ ঘাঁটিতে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রভীন কুমার।
বিজ্ঞাপন
সূত্রের বরাতে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বৈঠকে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ, অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার আলোচ্যসূচির অংশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা পিটিআইকে জানিয়েছেন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়গুলোই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ দুই দেশের মধ্যে আলোচনার আলোচ্যসূচি মূলত একই রয়েছে। আগামী ১১ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে একটি যৌথ আলোচনাপত্র স্বাক্ষরিত হবে বলেও আশ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আসন্ন আলোচনায় ভারতীয় পক্ষ থেকে বিএসএফ কর্মী ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর হামলা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে যৌথ প্রচেষ্টা, এক সারি বেড়া (এসআরএফ) নির্মাণ এবং আকাশসীমা লঙ্ঘন (ড্রোন অনুপ্রবেশসহ) এবং আটককৃত অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের হস্তান্তরে অস্বীকৃতি ও বিলম্বের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
অন্যদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের কথিত হত্যাকাণ্ডসহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ডিজি-পর্যায়ের সীমান্ত আলোচনা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু ১৯৯৩ সালে এটিকে দ্বিবার্ষিক করা হয় এবং উভয় পক্ষ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় ভ্রমণ করত। দুই বাহিনীর মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যখন বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় ছিল।
ওই বৈঠকের পর, উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মানব পাচার, সীমান্ত স্তম্ভ উপড়ে ফেলা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য সীমান্তবাসীকে সচেতন করতে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ গ্রহণ অব্যাহত রাখতে ‘সম্মত’ হয়েছিল।
অন্যদিকে আসন্ন বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে মোদী সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছিলেন, ভারত আর বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করবে না। তাদের বিরুদ্ধে ‘শনাক্তকরণ, অপসারণ এবং নির্বাসন’—এই তিন ধাপের পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীও রাজ্যে উপস্থিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের ৩টি পদ্ধতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যেই তার সরকার একটি শক্তিশালী বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে বিশাল পরিমাণে জমি হস্তান্তর করেছে।
উল্লেখ্য, ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২২১৬.৭ কিমি) পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২২১৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে মোট ১৬৪৭.৬৯ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে জলাশয় ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের মতো ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ১১২.৭৮ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়।
দেশটির আরও চারটি রাজ্য বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নেয় এর মধ্যে— ত্রিপুরা (৮৫৬ কিমি), মেঘালয় (৪৪৩ কিমি), আসাম (২৬২ কিমি) এবং মিজোরাম (৩১৮ কিমি)।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
এমএইচআর




