সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

শেয়ার করুন:

মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫
বিস্ফোরণে গ্রামটির অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ছবি: সংগৃহীত।

মিয়ানমারের শান রাজ্যের একটি বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে চীনের সীমান্তের কাছে নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা কিছুটা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহী গোষ্ঠী টা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানায়, খনন ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটিকে তারা ‘দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।

বিস্ফোরণের পর আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে বিশাল গর্ত, ধ্বংসস্তূপ, ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি এবং পুড়ে যাওয়া গাছপালা দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে এটিকে বিমান হামলা বলে মনে করেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বিস্ফোরণে পর তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও জানান, শিশুদেরও মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় পুরো একটি এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি। আমি ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম, ফোন দেখছিলাম। যদি আমি রান্নাঘরে থাকতাম, হয়তো বেঁচে ফিরতে পারতাম না।”

স্থানীয় ওই বাসিন্দা আরও জানান, তার একটি পা সামান্য আহত হয়েছে এবং নিজের ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের পর চারপাশে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

‘মানুষ চিৎকার করছিল, বাবা-মাকে ডাকছিল। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’ লিখেছেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে বিস্ফোরক রাখা একটি স্থাপনা আবাসিক এলাকার এত কাছে পরিচালিত হতে পারে। নিহতদের পরিবারগুলো পূর্ণ ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, টিএনএলএ মিয়ানমারের জান্তা-বিরোধী সবচেয়ে শক্তিশালী কিছু জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সাধারণত খনিজ সম্পদ আহরণ করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেখানে খনি দুর্ঘটনা ও এমন বিস্ফোরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে বলে জানিয়েছে এএফপি। সূত্র: বিবিসি।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর