যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন একটি চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। রয়টার্সের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা কার্যকর হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে দুই পক্ষ প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে।
তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে অনুমোদন দেননি এবং ইরানও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খসড়া চুক্তির বিষয়গুলো এখনো পর্যালোচনাধীন।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চুক্তি কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘আমরা চূড়ান্ত লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি, তবে এখনো সেখানে পৌঁছাইনি।’ তিনি আরও বলেন, আলোচনা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার দাবি করেছিল যে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, তবে ইরান বারবার সেই দাবি নাকচ করেছে বা গুরুত্ব দেয়নি।
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। এর বিনিময়ে ইরানের বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে চুক্তির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত ড্রোন হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে, যা ওয়াশিংটন অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে কুয়েতের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতি বাহিনী। এসব ঘটনার মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা আরও জটিল রূপ নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে নতুন কোনো শুল্ক আরোপ না করার বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে ওমান জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট নিরসনে সম্ভাব্য এই চুক্তি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।




