ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্ত ও নিশ্চিন্ত থাকলেও, সম্ভবত যে বিষয়টি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাতে জাগিয়ে রাখে তা হলো- রাশিয়ার ভয়াবহ মৃত্যুহার এবং এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ২৬ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন, পুতিনের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এই কর্মসূচিটি বায়ো-প্রিন্টিং এবং জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের মতো যুগান্তকারী পদ্ধতিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে একটিতে থ্রিডি-প্রিন্টেড জীবন্ত টিস্যু, আর অন্যটিতে ছোট আকারের শূকরের ভেতরে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরির চেষ্টা করছেন রুশ বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞাপন
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে জেফ বেজোস, স্যাম অল্টম্যান এবং ব্রায়ান জনসনের মতো বিশ্বের সেইসব ব্যক্তিত্বদের কাতারে স্থান করে নিয়েছেন পুতিন, যারা দীর্ঘায়ু এবং বার্ধক্য-প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, এই উদ্যোগটি, যার মধ্যে একটি নির্মাণাধীন জিন থেরাপি চিকিৎসাও অন্তর্ভুক্ত, ২০২৪ সালে চালু করা হয়েছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যের মধ্যে রয়েছে বায়োপ্রিন্টেড মানব তরুণাস্থি টিস্যু ও একটি ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো এই দশকের শেষ নাগাদ মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন।
প্রকল্পটির নেতৃত্বে কে আছেন?
পুতিনের এই পরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন তারই জ্যেষ্ঠ কন্যা ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট মারিয়া ভোরোন্তসোভা এবং রুশ পদার্থবিজ্ঞানী ও কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের প্রধান মিখাইল কোভালচুক।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, কোভালচুক বিশ্বাস করেন যে বিজ্ঞান অবশেষে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মেরামত এবং এমনকি প্রতিস্থাপন করার একটি উপায় বের করবে।
তিনি রাশিয়ান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অমরত্ব নিয়ে আলোচনা করা কঠিন, কিন্তু মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মেরামত করার ক্ষমতা নিঃসন্দেহে বাড়বে।’
বার্ধক্য রোধে পুতিনের প্রচেষ্টা
৭৩ বছর বয়সী পুতিনের শারীরিক অবক্ষয় রোধ এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক স্বাস্থ্য রক্ষার প্রতি যে তীব্র আগ্রহ, তা কোভিড মহামারীর সময়ও দেখা গিয়েছিল। ঘোড়ার পিঠে খালি গায়ে চড়া, আইস হকি খেলা, জিমে ব্যায়াম করা এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বককে আরও মসৃণ দেখানোর পাশাপাশি ওই সময় যারা তার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন, তাদের জন্য জীবাণুমুক্তকরণ টানেল এবং দীর্ঘকালীন আইসোলেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, পুতিনের অন্যতম আসক্তি হলো ক্রায়োথেরাপি, যার উপকারিতা তিনি ২০১৮ সালে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই রিভার্স সাউনাতে শরীরকে মাইনাস ১৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রার সংস্পর্শে আনা হয়।
এছাড়াও গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের কথোপকথনই প্রমাণ করে যে দীর্ঘায়ু লাভের উদ্যোগটি এখনও তার কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। যেখানে তিনি বলেছিলেন, একদিন মানুষ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করে অমরত্ব লাভ করতে পারবে।
পুতিনের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পেছনে কারণ কী?
দীর্ঘতম সময় ধরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকা পুতিন এবং তার সবচেয়ে কাছের সহযোগীরা সকলের বয়সই সত্তরের কোঠায়। এর ফলে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের শূন্যতা তার আয়ু দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করে অনেকে।
এর আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে রাশিয়ার মৃত্যুহারকে হ্রাস করা। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপে পুরুষদের গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৬ ও ৮০ বছর, সেখানে রাশিয়ার গড় আয়ু মাত্র ৬৮ বছর।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইআর




