মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

ভারতে নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়ারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতে নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়ারা

বাংলাদেশ থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মতুয়া সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ ভারতে গিয়েছিলেন, তাদের কথিত ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়, বরং ‘শরণার্থী’ বলা হবে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সেই আশ্বাস দিয়ে এসেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেক মানুষের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন কি না।

তাদের নতুন এই অনিশ্চয়তার সূত্রপাত রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর একটি ঘোষণার পরে।


বিজ্ঞাপন


মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের সেইসব প্রশ্ন নিয়েই সোমবার এক বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া, যিনি নিজেও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতারা বারেবারে এই আশ্বাস দিয়ে এসেছেন যে ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-তে আবেদন করলে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন।

সরকার গঠনের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা, তার ভাষায় ‘অনুপ্রবেশকারীদের’, তার রাজ্যের পুলিশ আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে যাতে সেই কথিত অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া যায়।

তিনি বলেছিলেন, ‘যারা ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন, কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সিএএ-এর আওতায় পড়েন না, তারা পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে, আটক করবে এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। বিএসএফ বিডিআরের (বিজিবির পুরোনো নাম) সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট, এবং ডিপোর্ট।"


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে পুরোনো নাম বিডিআর বলেই উল্লেখ করেছিলেন শুভেন্দেু।

ওই ঘোষণায় এটা স্পষ্ট নয় যে ‘সিএএ- এর আওতায় পড়েন না’ - এই কথাটির অর্থ কি এই যে, যারা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী আবেদন করেননি, তাদেরই কথিত অনুপ্রবেশকারী বলা হবে?

আবার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যে নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তাতে নাম বাদ পড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটা বড়ো অংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের। তাই মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এই ভেবে যে তাদেরও কি তাহলে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে কথিত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে?

সোমবার এই সব প্রশ্নের জবাব দিতেই মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় একশো জন মানুষ।

মতুয়াদের কী আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী?

মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘মতুয়া সম্প্রদায়ের কোনো উদ্বাস্ত মানুষ, যারা ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে এসেছেন, তাদের কাউকে ফের উদ্বাস্তু হতে হবে না। আমি মতুয়াদের বলেছি, আপনাদের প্রতিনিধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করুন ও আপনদের দাবি তুলে ধরুন।’

মতুয়াদের ‘ধর্মগুরু’ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও বিজেপির বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা এবং আমাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে অনেক ভুল বুঝিয়েছিলেন। সিএএ তে আবেদন করা নিয়ে মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু মানুষ সত্য বুঝতে পেরেছেন, তাই আজ আবার মতুয়াদের অনেকেই সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করছেন।’

নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে শিবিরও শুরু করেছেন তিনি। তার কথায়, ‘আমাদের বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই, আমি নিজেই, আবার সিএএ ক্যাম্প চালু করেছি। এসআইআরের সময়েও এই ক্যাম্পে অনেক মানুষকে এই আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন, তারা ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতায় পড়েন না।

দিতে হবে বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় নিপীড়নের’ প্রমাণ

সিএএ-এর তালিকাভুক্তি পর্ব চলার সময়, পশ্চিমবঙ্গে মতুয়াদের মূল কেন্দ্রস্থল ঠাকুরনগরে বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ কিছু সহায়তা শিবির গড়ে উঠেছিল। সেখানে সিএএ-এর অনলাইন আবেদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় হলফনামা এবং মতুয়া ঠাকুরবাড়ির উদ্যোগে হিন্দু সনদ এবং মতুয়া সনদ সংগ্রহের জন্য সব মিলিয়ে ভারতীয় মুদ্রায় ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল।

মতুয়াদের বক্তব্য ছিল, এই সনদগুলো তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ দেয় যে, সিএএ-এর আওতায় অধিকার প্রদান বিষয়টি নির্ভর করবে আবেদনকারীর ধর্মীয় নিপীড়নের হাত থেকে পালিয়ে আসার দাবির সত্যতা যাচাই করার ওপর। অর্থাৎ, মতুয়া সমাজের সদস্যদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে বাংলাদেশ থেকে 'ধর্মীয় নিপীড়ন'-এর শিকার হওয়ার প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক।

মতুয়া গোষ্ঠীর সদস্য ঠাকুরনগরের বাসিন্দা একজন ব্যক্তি বলেছেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মানুষ আবার সজাগ হয়েছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন হয়তো এবার কেন্দ্র আর রাজ্যের সম্মিলিত উদ্যোগে তাদের নাগরিকত্বের সমস্যা মিটবে। কিন্তু বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে কি না সেটা সময় বলবে।’

সঞ্জয় বিশ্বাস নামে তৃণমূল কংগ্রেসপন্থি একজন মতুয়া নেতা বলছেন, ‘বাংলাদেশের জমির দলিল অনেকের কাছেই নেই। সেটা সিএএ-এর আবেদনে একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক আবেদনকারী আবার তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পা পরিচয়পত্র সারেন্ডার করতে চাইছেন না।’ ফলত এটা পরিষ্কার যে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় অনেকের মনেই বাস্তব দুশ্চিন্তার রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘মানুষের মনে এ নিয়ে বিভ্রান্তি অনেক। এখন এমন পরিস্থিতি, যে সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন না করলে হয়তো আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে বা বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেবে। যারা নাগরিকত্ব পাননি এবং যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে এসআইআরের সময়ে বাদ গিয়েছে, তাদের মনে আরও বেশি করে ভয়।’

মতুয়া ও দলিত অধিকার নেতা বলে পরিচিত সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস বলছিলেন, ‘সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যে সব তথ্যপ্রমাণ ও কাগজপত্র দরকার, তা অধিকাংশ মানুষের কাছেই নেই। যার ফলে ভবিষ্যতে ভুয়া নথি তৈরি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।’

তিনি আরও জানান, ‘সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে প্রমাণ করতে হবে। ফলে, পরবর্তীকালে যদি তার আবেদন গৃহীত না হয়, তাহলে তিনি সিএএ থেকে বাদ পড়বেন ও অনুপ্রবেশকারী বলে তাকে বিবেচনা করা হতে পারে।’ 

আবার এখনো পর্যন্ত কতজন সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করে ভারতের নাগরিক হয়েছেন, সে ব্যাপারেও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

রাজ্যসভায় ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, সিএএর অধীনে "হাজার হাজার মানুষ" নাগরিকত্ব পেয়েছেন। যদিও এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য সুস্মিতা দেব রাজ্যসভায় দাবি করেন, মাত্র ৩৫০ জন মানুষ সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যেভাবে মতুয়া সম্প্রদায়

নমঃশূদ্র বা দলিত শ্রেণির হিন্দুদের মধ্যে কিছু মানুষ তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ওড়াকান্দির সমাজ সংস্কারক হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মতুয়া সম্প্রদায়ের সূচনা করেন।

১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পরবর্তী সময়কাল পর্যন্ত, মতুয়ারা পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশ ত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করেন; এদের অধিকাংশই উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, কোচবিহার এবং মালদার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আশ্রয় নেন।

ষাটের দশক থেকেই মতুয়ারা পশ্চিমবঙ্গের সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের বংশধর প্রমথরঞ্জন ঠাকুর প্রথম ১৯৬৩ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে হাঁসখালি থেকে নির্বাচিত হয়ে আদিবাসী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হন। তখন থেকেই একাধিকবার দল বদল করে ঠাকুরবাড়ি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থেকেছেন।

বর্তমানে ৩০টিরও বেশি বিধানসভা আসনে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। এর মধ্যে অধিকাংশই উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলায় অবস্থিত। বাম আমলে রাজনীতির সঙ্গে মতুয়াদের প্রধান ধর্মস্থান 'ঠাকুরবাড়ি'র সম্পৃক্ততা প্রকাশ্যে আসত না। যদিও বামেদের দীর্ঘদিন ভোট দিয়ে এসেছেন মতুয়ারা। 

তবে ২০১১ সালে, যেবছর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলো, সেবছরের ভোটে মতুয়াদের বড়ো অংশ মমতা ব্যানার্জীকেই সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর পরে মতুয়ারা স্পষ্টত দুইভাগে ভাগ হয়ে যান। ‘ঠাকুরবাড়ি’তে তৃণমূলপন্থি ও বিজেপি সমর্থক ভাগাভাগি প্রকট হয়।

২০১৯ সালে ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ পাশ হওয়ার পরে মতুয়াদের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। মতুয়া সম্প্রদায়েরই সদস্য এবং বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর ২০১৯ ও ২০২৪ উভয় লোকসভা নির্বাচনেই বনগাঁ আসন থেকে জয়লাভ করেন। তিনি এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

দীর্ঘকাল ধরে বিজেপি মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করে আসছে। অন্যদিকে সাবেক শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, সিএএ ছাড়াও তাদের নাগরিকত্ব দিতে অসুবিধা নেই, কারণ অধিকাংশ মানুষই ভোট দেন।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলার সময়ে, বিজেপি মতুয়া এবং অন্যান্য বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীদের সিএএ আইনের আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বলে, যাতে পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়।

তবে, মতুয়া মহাসংঘের তৃণমূলপন্থি অংশটির নেত্রী মমতাবালা ঠাকুরের নেতৃত্বে মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি অংশ অনশন ধর্মঘটে বসে। তাদের অভিযোগ ছিল যে, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে মতুয়ারা তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।

পরে দেখা যায়, এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানুষদের বড় অংশ এই মতুয়া সম্প্রদায়ের হিন্দু। নাগরিকত্ব হারানোর ভয় জাঁকিয়ে বসেছিল মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষকেই। যদিও বর্তমান রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার বক্তব্য, মতুয়ারা সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়ে সসম্মানে ভোটার তালিকায় ফিরবেন। বিবিসি বাংলা


এমএইআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর