মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইরান শান্তি চুক্তিতে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বাধ্যতামূলক করতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০২:৪৯ এএম

শেয়ার করুন:

ইরান শান্তি চুক্তিতে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বাধ্যতামূলক করতে চান ট্রাম্প
ছবি: এআই

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তানসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ভূরাজনৈতিক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন। 

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, গত শনিবার (২৩ মে) তিনি কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান সংকট সমাধানের যে প্রচেষ্টা চলছে, তার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।’


বিজ্ঞাপন


ট্রাম্প জানান, তিনি সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও জর্ডানের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের জানিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র এই জটিল পরিস্থিতি সমাধানে যে পরিমাণ কাজ করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’

প্রসঙ্গত, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা আব্রাহাম চুক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো, সুদান ও কাজাখস্তান এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ।

ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া দেশগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে লাভবান হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত দেশগুলো আর্থিক ও সামাজিকভাবে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যেও তারা কখনো এই জোট ছাড়ার কথা ভাবেনি।’


বিজ্ঞাপন


ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ নতুন করে চুক্তি সম্প্রসারণ শুরু হওয়া উচিত এবং পরে অন্য দেশগুলোও এতে যোগ দেবে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কেউ এতে যোগ না দেয়, তাহলে সেটি খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তাদের ইরান চুক্তির অংশ হওয়া উচিত নয়।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কয়েকজন আরব নেতা নাকি তাকে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছে, তাহলে তারা ইরানকেও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ হিসেবে দেখতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলোর একটি। অতীতে বা ভবিষ্যতে এর চেয়ে বড় কোনো সমঝোতা হবে না।’ এই চুক্তিতে সবার স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্যকে ‘ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ’ অঞ্চলে পরিণত করার কথাও উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ কী?

ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম— এই তিন ধর্মেরই আদি পুরুষ হিসেবে সম্মানিত ইব্রাহিম (আ.) এর নামে এই চুক্তির নামকরণ করা হয়। নামটির মাধ্যমে ধর্মীয় ঐক্য ও শান্তির প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সুসম্পর্ক স্থাপন করতে আব্রাহাম অ্যাকর্ড উত্থাপন করেন। মূলত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্য এ চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইন প্রথম এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মরক্কো এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুদান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

আব্রাহাম চুক্তির মূল বিষয়

মূলত ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে আব্রাহাম চুক্তির মূল বিষয়গুলো গৃহীত হয়েছে।

১. ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ এবং এক দেশ অন্য দেশে দূতাবাস ও কনস্যুলেট খোলা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা।

২. ইসরায়েল ও স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং পর্যটন, কৃষি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।

৩. পরিবহন ও ভ্রমণ সুবিধার জন্য দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা। নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজীকরণ এবং পর্যটন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া।

৪. মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে ইরান এবং উগ্রপন্থার প্রভাব কমানো। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

গত শতাব্দীতে চারটি আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনেক আরব দেশ ঘোষণা দিয়েছিল যে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। কিন্তু আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সেই অবস্থান পরিবর্তিত হয়, যা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে।


এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর