দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলিমদের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। বাংলাদেশে ঈদকে কেন্দ্র করে গরু-মহিষ-ছাগলের দাম নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। এবার যদি বলা হয় একটি গরুর কত দাম সর্বোচ্চ কত হতে পারে? কতদূর আপনি কল্পনা করতে পারেন? আপনার কল্পনাকেও ছাপিয়ে যেতে বাধ্য একটি গরুর দাম!
লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের এক নিলামে একটি ‘নেলোর’ প্রজাতির গরু ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারে (বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বিক্রির মাধ্যমেই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরু ও গবাদি পশু হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে ‘ভিয়াতিনা ১৯’ নামে গরুটি।
বিজ্ঞাপন
২০২৩ সালের ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরের আরন্দুতে ১ হাজার ১০১ কেজি ওজনের গরুটি নিলামে তোলা হয়েছিল। এর আংশিক মালিকানা ১৪.৪ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হওয়ার পর গরুটির মোট বাজারমূল্য রেকর্ড ৪৩.৮ লাখ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়।
প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, নেলোর প্রজাতির গরুর জিনগত উপাদানের সম্ভাব্যনাও লুকিয়ে রয়েছে ভিয়াতিনার এই অভাবনীয় দামের পিছনে। দামই বলে দিচ্ছে, এই জাতটির কত উন্নত গুণমানের। এর তুষার-সাদা রঙ, বিশাল আকৃতি এবং চমৎকার জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের জন্য এটি বিখ্যাত। শারীরিক দিক থেকে এই গরু অতি শক্তিশালী। গরুটির দুধেও আছে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ।
প্রসঙ্গত, নেলোর জাতের গরুর উৎপত্তি কিন্তু ভারতে। অন্ধ্র প্রদেশের নেলোর জেলার নাম থেকেই এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে। ১৮৬৮ সালে জাহাজে এক জোড়া নেলোর গরু ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর এই গরুর সংখ্যার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছিল দেশটিতে। এখন ব্রাজিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবাদি পশুর জাত হয়ে উঠেছে নেলোর গরু।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, এই জাতের গরু উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। ফলে গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে এই গরু পালন অত্যন্ত সুবিধাজনক। অত্যন্ত শক্তিশালী এ গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি, আর, মাংসও অত্যন্ত উচ্চমানের।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
এমএইআর




