শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গে এবার ঈদের ছুটি কমিয়ে দিল শুভেন্দুর সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

পশ্চিমবঙ্গে এবার ঈদের ছুটি কমিয়ে দিল শুভেন্দুর সরকার

দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলিমদের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে বিগত ১৫ বছর ধরে ঈদ উপলক্ষে রাজ্যে দুদিন সরকারি ছুটি দেওয়ার রীতি ছিল। এবারও বছরের শুরুতে মমতা ঘোষণা করে গিয়েছিলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৬ ও ২৭ মে দুদিন রাজ্য জুড়ে সরকারি ছুটি থাকবে। কিন্তু সেই ছুটি কমিয়ে দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার। 

শনিবার নবান্ন থেকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৬ বা ২৭ মে নয়, ঈদ উপলক্ষে শুধু আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার একদিন সরকারি ছুটি থাকবে।


বিজ্ঞাপন


প্রশাসনিক ও নবান্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, ঈদের আসল তারিখ অনুযায়ী এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ঈদের দিন নির্ধারিত হয়। তাই ক্যালেন্ডারের আগের দিনক্ষণ বদলে নতুন করে বৃহস্পতিবার দিনটিকে ছুটির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, বিষয়টি চাঁদ দেখার দিন বদল নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে নতুন সরকারের এক প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক বার্তা। কারণ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাচ্ছেন।  


বিজ্ঞাপন


এরআগে গত ১৩ মে বিজেপি সরকারের তরফে ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ মেনে চলার জন্য একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে বলা হয়- সরকারের অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু ও মহিষ জবাই করতে পারবেন না। এছাড়া গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। 

ঈদের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে গরু কেনাবেচা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের বহু হিন্দু খামারি ও ব্যবসায়ীরা। 

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে- বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মালদহের মতো মুসলিম প্রধান জেলাগুলোতে হিন্দু খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তারা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেন। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী- ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো পশু কেনাবেচা বা জবাই করা যাবে না। এই আইনি জটিলতা এবং পুলিশের হয়রানির ভয়ে মুসলিম ক্রেতারা এবার হাটে এসে গরু কিনতে চরম অনীহা প্রকাশ করছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ছাগল বা ভেড়ার দিকে ঝুঁকছেন। গরু বিক্রি না হওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা।  

খামারিদের অভিযোগ, বছরের পর বছর গরু পালন করে কোরবানির সময় বিক্রির ওপর তারা নির্ভরশীল থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গরু বিক্রি না হলে ঋণের বোঝা সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ কিংবা বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।

সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, একদিকে দেশে গবাদি পশুর মাংস রফতানি থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্ষুদ্র খামারিদের নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হচ্ছে কেন। তাদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা।

সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ওয়াল

এমএইচআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর