ভারতের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে- বিচারব্যবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের মতো গুরুতর সমস্যা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা এবার ছাড়িয়ে গেল সীমান্ত। সিজেপিকে অনুকরণ করে প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানেও একই ধরনের বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর জন্ম নিয়েছে, যারা নিজেদেরকে দেশটির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে- তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি (ককরোচ আওয়ামী পার্টি-সিএপি) এবং তেলাপোকা আওয়ামী লীগ (ককরোচ আওয়ামী লীগ-সিএএল) অন্যতম।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আদালতে মন্তব্য করেছিলেন, কিছু বেকার যুবক এবং অনলাইন অ্যাকটিভিস্টরা নাকি ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা ও ‘পরজীবী’- তার এই বক্তব্যেই ক্ষুব্ধ করে তোলে ভারতের জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মকে। সেখান থেকেই ‘Cockroach Janta Party’ নামে একটি গ্রুপ খোলেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক ৩০ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
বিজ্ঞাপন
এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার সব প্ল্যাটফর্মে ককরোচ জনতা পার্টির উত্থান হয়েছে ঝড়ের মতো। কয়েকদিন আগেও যেখানে এটি ছিল নিছক একটি অনলাইন স্যাটায়ার আন্দোলন, সেখানে এখন এটি পরিণত হয়েছে জনরোষ, বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, রাজনৈতিক ভাষ্য আর প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা নিয়ে যুবসমাজের সমালোচনার শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।
মাত্র পাঁচ দিন আগে পথ চলা শুরু করা এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এক্স ও ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যায় পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি)। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই এক্সে সিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ। কিন্তু এরপরই তাদের এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয় ভারত সরকার।
তবে এই তেলাপোকা পার্টিটি অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় তা বিশ্বজুড়ে সবার নজর এড়ায়নি এবং বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাদ যায়নি পাকিস্তানও, দ্রুতই অনলাইনে তেলাপোকা জনতা পার্টির পাকিস্তানি সংস্করণগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে।
প্রথম দিকের পেজগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ, যেটি তার বায়োতে খোলাখুলিভাবে ভারতীয় আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা স্বীকার করে: "হ্যাঁ, নকল করেছি, কিন্তু তাতে কী আসে যায়। মূলমন্ত্র একই"। শুক্রবার অ্যাকাউন্টটির ফলোয়ার সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানি অ্যাকাউন্টটি জানায়, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা কোনো একক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং এর লক্ষ্য হলো পাকিস্তানে প্রত্যেক জেন-জি প্রজন্মের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা। যদিও এর লোগোটি ভারতীয় লোগোর মতোই, তবে এটি সবুজ-সাদা ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করে এবং নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) বা পিএমএল-এন, এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মতো মূলধারার দলগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে।
এক্স-এও একই ধরনের পেজ দেখা গেছে। @CockroachAP নামের একটি অ্যাকাউন্ট নিজেদের বর্ণনা করেছে এই লাইন দিয়ে: ‘Jinhein system ne cockroach samjha, hum unhi awaam ki awaaz hain’ (যাদেরকে রাষ্ট্র ব্যবস্থা তেলাপোকার মতো ব্যবহার করেছে, আমরা সেইসব মানুষের কণ্ঠস্বর)।
‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ পাকিস্তান নামে আরেকটি পেজ নিজেদেরকে ককরোচ আওয়ামী লীগ (সিএএল)-এর ‘অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট’ বলে দাবি করে এবং উর্দুতে ‘হার হালাত মে জিন্দা হ্যায়’ (আমরা সব পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকি) স্লোগানটি ব্যবহার করে।
এদিকে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র একজন সুস্পষ্ট প্রতিষ্ঠাতা, একটি ইশতেহার এবং একটি আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থাকলেও, এর পাকিস্তানি অ্যাকাউন্টগুলো অনেক বেশি খণ্ডিত, যেখানে একাধিক উদ্যোক্তা স্বাধীনভাবে তাদের নিজস্ব সংস্করণ চালু করছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি
এমএইআর




