বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

এবারও গাজায় কোরবানি ছাড়া ঈদ, হজে বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

এবারও গাজায় কোরবানি ছাড়া ঈদ, হজে বাধা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দা নাজিয়া আবু লেহিয়ার ইচ্ছে ছিল স্বামীর সঙ্গে পবিত্র মক্কায় হজ করতে যাবেন।

২০২৪ সালে চেষ্টাও করেছিলেন নাজিয়া এবং তার স্বামী, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় পারেননি। চলতি বছরও হজ পালন করা হবে না নাজিয়ার।


বিজ্ঞাপন


কারণ সীমান্ত এখনও বন্ধ আছে এবং গত বছর নাজিয়ার স্বামী ইসরায়েলি বোমার আঘাতে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি-ঘরও ভেঙে গেছে, বর্তমানে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস একটি তাঁবুতে থাকছেন নাজিয়া। খবর এএফপির।

নাজিয়ার সঙ্গে তার তাঁবুতে বসে কথা বলেছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি। বার্তাসংস্থাটিকে নাজিয়া বলেন, আমি এবং আমার স্বামী ২০২৪ সালের হজের জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলাম, সিলেক্টও হয়েছিলাম। 

কিন্তু এর মধ্যেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো, সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলো…আমাদের আর হজে যাওয়া হলো না। ভেবেছিলাম, যুদ্ধ শেষ হলে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু গত বছর এক বোমা হামলায় স্বামী নিহত হয়েছেন।

৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া বলেন, আমি হজের নিয়্যত করেছি বেশ কয়েক বছর আগে। আমার মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তা হয় যে আমিও হয়তো তার (স্বামী) মতো কোনো একদিন নিহত হবো, কিন্তু তারপরও এখনও আশা ছাড়িনি। যদি আল্লাহর ইচ্ছে হয়— অবশ্যই আমি একদিন হজ করতে পারব।


বিজ্ঞাপন


যুদ্ধের আগে গাজার হজযাত্রীরা রাফা ক্রসিং পেরিয়ে মিসর হয়ে সৌদি আরবে হজ করতে যেতেন। 

তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজাবাসীদের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এ ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে, তার আওতায় চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাফা ক্রসিং আংশিক ভাবে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল; কিন্তু সপ্তাহে মাত্র কয়েক শ গাজাবাসীকে এই সীমান্তপথ পেরোনোর অনুমতি দিচ্ছে ইসরায়েল। মূলত অসুস্থ বা আহতদেরই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নিজের মোবাইলে হজের ভিডিও ফুটেজ দেখতে দেখতে নাজিয়া বলেন, হজযাত্রীদের জন্য সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে, কিন্তু কেন? হজযাত্রীরা তো শুধু তাদের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পালন করতে চায়। আজ এই দিনে আমাদের মক্কায় থাকার কথা ছিল।

গাজার সীমান্ত ক্রসিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কেবলমাত্র মানবিক কারণে রাফা ক্রসিং উন্মুক্ত করার বিষয়ে বলা আছে। হজযাত্রা এই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর গাজার মুসলিমরা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার গরু-উট এবং ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ভেড়া-দুম্বা আমদানি করত।

কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় জীবন্ত পশু আমদানি বন্ধ আছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে পশু কোরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা উদযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে গাজার ফিলিস্তিনিরা।

গাজায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে। কোগাট সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে প্রায় ৮ হাজার টন মাংস, মুরগি, ডিম ও দুধ প্রবেশ করতে এবং তা গাজার বাসিন্দাদের মাঝে বিতরণের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েলের সরকার, তবে কোরবানির পশু আমদানির অনুমতি এখনও দেয়নি।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর